‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬’-এর প্রথম আসরে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে রংপুর বিভাগীয় দল। এই টুর্নামেন্টের বালিকা ফুটবল ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা। এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে মূল ভূমিকা পালন করেছে রংপুরের পালিচড়া গ্রামের অদম্য প্রতিভাবান মেয়েরা।
Advertisement
টুর্নামেন্টের বালিকা ফুটবল দলের প্রথম একাদশের মূল খেলোয়াড়দের আটজনই এসেছে রংপুর সদর উপজেলার পালিচড়া গ্রাম থেকে। চরম প্রতিকূলতা ও গ্রামীণ জীবন পেরিয়ে তাদের এই অপ্রতিরোধ্য জয় পুরো রংপুরবাসীর মনে আনন্দের জোয়ার বইয়ে দিয়েছে। টুর্নামেন্টজুড়ে তাদের দুর্দান্ত নৈপুণ্য ও দলীয় সমন্বয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
রংপুর বিভাগের জন্য গৌরব বয়ে আনা পালিচড়ার কৃতি কন্যাদের সাফল্যে চারদিক যখন আনন্দমুখর, তখন দিনশেষে তাদের বাস্তবচিত্রটি বেশ কষ্টদায়ক। কঠোর পরিশ্রম ও দিনের ক্লান্তি শেষে রাতে একটু শান্তির ঘুমের সুযোগটুকুও মেলে না এই উদীয়মান খেলোয়াড়দের। গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে রাতের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায়। সে সঙ্গে নেই পানির সুব্যবস্থা, নেই পুষ্টিকর খাবার। অভাব রয়েছে অনুশীলনের সাজ-সরঞ্জামেরও।
যারা খেলেছেনতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের এবারের শিরোপাজয়ী দলের খেলোয়াড় অনন্যা খানম, স্মৃতি কিসকু, ঐশী আক্রার, সিনহা আয়াত, মনি আক্তার, লাবনী রানী অপর্ণা, মার্জিয়া আক্তার ও জয়া আক্তার নীলা।
Advertisement
এই আট ফুটবলকন্যা মাঠে যেমন রাজত্ব করেছে, তেমনি মাঠের বাইরের জীবনটা ঠিক উল্টো। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বেড়ে ওঠা এই ফুটবলকন্যাদের পড়াশোনা পালিচড়া এমএন উচ্চ বিদ্যালয়ে।
নানা প্রতিকূলতাতেও অদম্যএই দলের অধিনায়ক অনন্যা খানম। তার অনন্য হয়ে ওঠার গল্পটাও যেন এক অনবদ্য কাহিনি। বছরের শুরুতে নারী ফুটবল লিগে অংশ নিতে যখন ঢাকায় অবস্থান করছিলেন, তখন ২ জানুয়ারি অনন্যার বাবা মারা যান। সেই রাতে ঢাকা থেকে পালিচড়ায় চলে আসেন অনন্যা। বাবার দাফন সম্পন্ন করে ৩ জানুয়ারি আবার ঢাকায় ফিরে যেতে হয় তাকে। শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে চলা অনন্যার হাত ধরেই নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে দেশসেরা হয় রংপুর।
এই দলের আরেক অপ্রতিরোধ্য খেলোয়াড় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চক কৃষ্ণপুর গ্রামের অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের মেয়ে স্মৃতি কিসকু।
১৩ বছর বয়সী স্মৃতি কিসকুর জন্মের পরপরই তার বড় বোন বৃষ্টি সাপের কামড়ে মারা যায়। বাবা সোবহান হাসদার লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দুই বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর পর বিভিন্ন বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে স্মৃতিকে বড় করেন তার মা মাতি মাই হেমরন।
Advertisement
নতুন কুঁড়ির শিরোপা জিতে বাড়ি ফিরে স্মৃতি তার মাকে দেখতে পাননি। পরে জানতে পারেন, অভাবের তাড়নায় কাজের সন্ধানে তার মা ঢাকায় এসেছেন। মায়ের কাছে কোনো মোবাইল ফোন না থাকায় প্রায় তিন মাস ধরে তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না।
একটি মোবাইল ফোনের অভাবে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারা স্মৃতি কিসকুকে নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে অবশেষে দেখা মেলে তার মায়ের।
এই দলের অন্য খেলোয়াড়দের মধ্যে কারো বাবা রাজমিস্ত্রী, কেউ অটোরিকশাচালক, কেউ কৃষক, কেউবা হোটেলশ্রমিক। কেউ বাবা হারিয়েছে, কেউ হারিয়েছে মাকে।
নানা সংকটে জর্জরিত এই খুদে খেলোয়াড়দের অভিযোগ, স্টেডিয়ামের দ্বিতীয় তলায় তাদের রাতে ঘুমাতে হয়। গ্রীষ্মকালে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে তারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না। বিদ্যুৎ চলে গেলে নেই সোলার কিংবা আইপিএসের ব্যবস্থা।
এদিকে তপ্ত রোদে ট্যাংকের পানি গরম থাকে। অনুশীলন শেষে এসে গোসলেরও উপায় থাকে না। তখন অপেক্ষা করতে হয় রাত হওয়ার। পানি কিছুটা ঠান্ডা হলে তবেই গোসল করা যায়।
শীতকালে ঘটে উল্টোটা। তখন গরম পানির প্রয়োজন হলে মেলে কনকনে ঠান্ডা পানি। সে সঙ্গে ঠিকমতো পুষ্টিকর খাবারও মেলে না। কোচ মিলন মিয়ার বাড়িতে যা জোটে, তাই খেয়ে থাকতে হয়। এই খেলোয়াড়দের দাবি, সারাদিনের কঠোর পরিশ্রম ও অনুশীলনের পর নিশ্চিন্তে শান্তির ঘুম, পানির সুব্যবস্থা ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা হোক।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের প্রথম আসরে বাজিমাত করা স্মৃতি কিসকু অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘রংপুর বিভাগ দলের একজন খেলোয়াড় হিসেবে এটা আমাদের জন্য গর্বের। এই দলের আটজন খেলোয়াড় পালিচড়া স্টেডিয়ামে থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছি। ভবিষ্যতে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখছি আমরা। তবে এজন্য নিয়মিত অনুশীলনের উন্নত পরিবেশ এবং স্টেডিয়ামের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর জোর দাবি জানাচ্ছি।’
যা বললেন কোচরংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্র থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে পালিচড়ার নয়াপুকুর কলেজ বাজার। এর পাশেই পালিচড়া স্টেডিয়াম, যেটিকে এখন বলা হয় নারী ফুটবলার তৈরির আঁতুড়ঘর। নারী ফুটবলারদের জন্য প্রতিষ্ঠিত একমাত্র স্টেডিয়ামও এটি। এ মাঠে অনুশীলনের মধ্য দিয়ে শতাধিক খুদে নারী ফুটবলার গড়ে উঠেছে। এমনকি তারা দেশ-বিদেশ থেকে সাফল্যও এনে দিচ্ছে।
পালিচড়ায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের এক কোণে পাশাপাশি দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান- পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পালিচড়া এমএন উচ্চ বিদ্যালয়। রাস্তার পাশেই বড় একটি মাঠ, যেখানে গড়ে তোলা হয়েছে মেয়েদের জন্য স্টেডিয়াম। মাঠের পশ্চিম কোণায় রয়েছে সদ্যপুস্করনী উন্নয়ন সংস্থা ও সদ্যপুস্করনী যুব স্পোর্টিং ক্লাব।
ক্লাবটির সভাপতি ও কোচ মিলন মিয়ার হাত ধরেই এগিয়ে যাচ্ছে পালিচড়ার মেয়েরা। কোচ মিলন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে বাংলাদেশ উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগে আমাদের এই ক্লাবটি সফলতার সঙ্গে খেলেছে। আমাদের এই ক্লাব থেকে ১১ জন খেলোয়াড় বাংলাদেশ আর্মিতে চাকরি পেয়েছে এবং তারা খুব ভালো খেলছে। এক সময় এখান থেকে ১০ জন খেলোয়াড় বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলেছে। বর্তমানে আরও খেলোয়াড় আছে, যেমন জয়নব ও সুলতানা। সদ্য শেষ হওয়া লিগের পর চলমান ক্যাম্পে রয়েছে পায়েল ও মিম।’
মিলন বলেন, ‘সদ্য যে নতুন কুঁড়ি শেষ হলো, যে বিভাগীয় দল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, সেই রংপুর বিভাগের আলোচিত দলে স্মৃতি কিসকু ও অধিনায়ক অনন্যাসহ আমাদের ক্লাবের আটজন খেলোয়াড় সফলতার সঙ্গে খেলেছে। সবাই দেখেছে, ওরা কতটা নৈপুণ্যের সঙ্গে ফুটবল খেলেছে।’
এই ক্লাবের পাইপলাইনে আরও অনেক প্রতিভাবান ও সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় রয়েছে জানিয়ে মিলন বলেন, ‘আমাদের এই ক্লাবটি একদম গরিব বলা চলে। কারণ, এই ক্লাবকে বড় ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা করার মতো কেউ নেই। মোটামুটি সহায়তা করেন মঞ্জুরুল ইসলাম আজাদ, শামীম খান মিসকিন এবং বর্তমানে সংযুক্ত আছেন নয়ন ভাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকেই এই ক্লাবটি এভাবেই চালাতে হয়। যদিও এটা খুব কষ্টসাধ্য বিষয়। অধিকাংশ মেয়েকে আমার বাসায় রেখে খাওয়াতে হয়, পড়াশোনা করাতে হয়। কারণ, এদের কারো মা আছে, বাবা নেই। আবার কারো বাবা আছে, মা নেই। এদের চলার মতো কোনো অবস্থা নেই। এরকম অসংখ্য মেয়েকে আমাকে টেনে তুলতে হয়।’
মিলন বলেন, ‘অবকাঠামোগত উন্নয়ন খুবই প্রয়োজন। আমরা যদি দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের দেশগুলোর কথা চিন্তা করি, তাহলে দেখি তাদের ক্লাবগুলোর অবকাঠামো অনেক উন্নত ও সহায়ক। কিন্তু আমাদের দেশে এই ক্লাবগুলোকে সেভাবে দেখা হয় না। অথচ এই ক্লাবগুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সরকার নতুন নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে; কিন্তু এই একাডেমি ও ক্লাবগুলো থেকেই সারা বাংলাদেশের খেলোয়াড় উঠে আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ক্লাবগুলোর আর্থিক অবস্থা খুবই ভঙ্গুর। জিমনেশিয়াম, খাবারের ব্যবস্থা এবং অনুশীলনের মাঠ- সবকিছুর উন্নতি দরকার। অনেক মাঠের অবস্থা ভালো নয়, ফলে খেলোয়াড়দের ইনজুরির ঝুঁকি থাকে। সরকার যদি এসব বিষয়ে নজর দেয়, তাহলে নতুন কুঁড়ির মতো আসর থেকে আরও ভালো মানের খেলোয়াড় বের হবে এবং ক্লাব ও একাডেমিগুলো সরকারকে আরও বেশি সহায়তা করতে পারবে।’
বর্তমান অবস্থাপালিচড়া স্টেডিয়ামের পার্শ্ববর্তী গ্রাম জয়রাম, ফাজিল খাঁ, রামজীবন, মৌলভীপাড়া, ধাপেরহাট, পালিচড়া ও শ্যামপুরের ২৫ জন নারী ফুটবলার এখন প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। প্রতিদিন ফুটবলের নানা কৌশলের অনুশীলন চলে। তাদের মধ্যে অনেকেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফুটবল খেলার স্বপ্ন দেখছেন।
পালিচড়ার ফুটবলযাত্রাতৃণমূল পর্যায় থেকে নারী ফুটবলার তৈরির লক্ষ্যে সরকারিভাবে শুরু হয়েছিল বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্ট। ২০১১ সালে পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এতে অংশ নেয়।
গ্রামের মেয়েদের ফুটবল খেলাকে অনেকেই ভালো চোখে দেখেননি। নানা সমালোচনা হয়। তবে বিষয়টি দক্ষতার সঙ্গে সামলে নেন বিদ্যালয়ের তৎকালীন সভাপতি প্রয়াত আবেদ আলী। এরপর স্কুলের মেয়েরা স্বাচ্ছন্দ্যে অনুশীলন ও টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।
ওই বছর জাতীয় পর্যায়ে রানারআপ হয় পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে পালিচড়ার মেয়েদের নাম। এরপর পালিচড়া এমএন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশেক আলী হিটলার ও ফুটবল কোচ শামীম খান মিসকিনের প্রশিক্ষণে গড়া দল নিয়ে ২০১২ সালে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয় পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এরপর থেকেই পালিচড়ায় নারী ফুটবল নিয়ে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। বাধার দেয়াল ধীরে ধীরে সরে যেতে থাকে। বাড়তে থাকে ফুটবল অনুশীলনে মেয়েদের অংশগ্রহণ।
খেলোয়াড়দের সাফল্যগাথা২০১২ সালে জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০১৪ সালে রানারআপ হয় পালিচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একই বছর জাপান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (জেএফএ) আয়োজিত টুর্নামেন্টে রানারআপ এবং পরের বছর চ্যাম্পিয়ন হয়।
২০১৬ সালে ব্র্যাক ব্যাংক বাংলাদেশ ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন, ২০১৭ সালে জেএফএ টুর্নামেন্টে রানারআপ, ২০১৮ সালে ৪৭তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন, ২০১৯ সালে জেএফএ কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়।
২০২১ সালে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব গোল্ডকাপ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলে রংপুর বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়। সেই দলে পালিচড়ার ১১ জন খেলোয়াড় ছিলেন। ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিভাগে রংপুর বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হয়, যেখানে অংশ নেন পালিচড়ার ১০ ফুটবলকন্যা। ২০২৩ সালে ইউনিসেফ উইমেন্স ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ অনূর্ধ্ব-১২-তে পালিচড়া চ্যাম্পিয়ন হয়।
২০১৬ সালে তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবল টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বে ভারতকে ৯-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। বিজয়ী সেই দলে ছিলেন এ গ্রামের মেয়ে লাবণী, আর্শিতা ও আঁখি।
জয়রাম গ্রামের সিরাত জাহান স্বপ্না ২০২২ সালের সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেন এবং সেইবার বাংলাদেশ শিরোপা জয় করে।
স্বপ্নের স্টেডিয়ামপালিচড়ায় নারী ফুটবলে বিপ্লব ঘটলেও শুরুটা ছিল নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। নয়াপুকুর বাজারের মাঝখানে একটি অসমতল মাঠে অনুশীলন করত মেয়েরা। মাঠজুড়ে ছিল ইট-খোয়া, পাথর ও উঁচু-নিচু জায়গা। সেখানে অনুশীলন করতে গিয়ে প্রায়ই ইনজুরির শিকার হতো তারা।
এ ছাড়া অনুশীলনের সময় মোটরসাইকেল ও ট্রাক মাঠে ঢুকে পড়ত। বখাটেদের উৎপাত ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। ড্রেসিংরুম, বাথরুম- কোনো সুবিধাই ছিল না। পাশের বাড়িতে গিয়ে অনিরাপদ পরিবেশে পোশাক পরিবর্তন ও বাথরুম ব্যবহার করতে হতো।
এত প্রতিকূলতার মধ্যেও পালিচড়ার মেয়েরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য এনে দিয়েছে। এর স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে নয়াপুকুরে নারী ফুটবলারদের জন্য একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
‘রংপুর জেলা স্টেডিয়ামে আধুনিক মিডিয়া সেন্টার ও ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণসহ অধিকতর উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় চার একর জমির ওপর স্টেডিয়াম নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২২ সালের ২৯ মে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। স্টেডিয়াম নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
জিতু কবীর/আইএইচএস/