পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত উপত্যকায় একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২২ জন। রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় কাবাল শহরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় পুলিশ স্টেশনের কাছে সহিংসতার প্রতিবাদে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।
Advertisement
সোয়াত জেলার পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও) উমর খান জানান, পুলিশ স্টেশনের প্রবেশমুখে দায়িত্বরত সদস্যরা এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামিয়ে তল্লাশির চেষ্টা করেন। এ সময় ওই ব্যক্তি শরীরে বাঁধা বিস্ফোরকে বিস্ফোরণ ঘটান।
আরও পড়ুন আজাদ কাশ্মীরে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে নিহত ৩০সোয়াত অঞ্চলের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) ফিদা হুসেইন জানান, হামলায় অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি।
হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুরো এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
Advertisement
আহতদের পাশের শহর সাইদু শরিফের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশের মধ্যেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণজানা যায়, এদিন পুলিশ স্টেশনের কাছের একটি মোড়ে কয়েকশ মানুষ সমাবেশ করছিলেন। তাদের দাবি ছিল, সোয়াতে বাড়তে থাকা সহিংসতা দমনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সমাবেশে শেষ বক্তা বক্তব্য দেওয়ার সময় আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন।
আরও পড়ুন পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ৩০সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। তাদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ছে।
Advertisement
একজন বক্তা পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনকে বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর রক্তপাত দেখেছি। আরেকটি প্রজন্মকে এতিম ও বিধবার জীবন দেখতে চাই না।’
প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রীর নিন্দাএই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।
পৃথক বিবৃতিতে তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
দুজনেই বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন পাকিস্তানে অস্ত্রধারীদের হামলায় ৯ পুলিশ নিহত, কয়েকজন এখনো নিখোঁজদেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
পাকিস্তানে বাড়ছে সহিংসতাসাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়ায় সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০০৭ সাল থেকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) দেশটির রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে।
এই হামলার মাত্র তিনদিন আগে হাঙ্গু জেলায় বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন হামলায় ১১ পুলিশ সদস্য নিহত হন। এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে ট্যাংক জেলায় গাড়িবোমা হামলায় ২৭ সেনাসদস্য নিহত হন। ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল টিটিপি।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে খাইবার পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাস-সম্পর্কিত ঘটনায় ১৫৪ জন নিহত হয়েছেন, যা জুন মাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার সীমান্তের ওপারে এমন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করে। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে।
এ বিরোধের জেরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুতে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলায় বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার অভিযোগ তোলে কাবুল ও জাতিসংঘ।
সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/