রাজধানীর দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ এলাকায় দন্তচিকিৎসক সারাহ রোকসানা পিনু হত্যা মামলায় গ্রেফতার স্বামী সোহেল রানাকে দুদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া জুতার ছাপের সঙ্গে তার ব্যবহৃত জুতার মিল পাওয়ার পর তদন্তে নতুন অগ্রগতি আসে।
Advertisement
সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু বকর সিদ্দিক জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার ফায়দাবাদ এলাকার জামতলা গলির একটি বাসা থেকে পিনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের ধারণা ছিল, জানালার গ্রিল কেটে দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকে তাকে হত্যা করে এবং মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
তবে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় জানালার ভেতরের বারান্দায় একটি জুতার ছাপ দেখতে পান সিআইডি সদস্যরা। পরে বাসা থেকে জব্দ করা একজোড়া জুতার সঙ্গে ওই ছাপের মিল পাওয়া যায়। তদন্তে জানা যায়, জুতাটি পিনুর স্বামী সোহেল রানার।
Advertisement
এ ঘটনায় শুক্রবার নিহতের বোন সারাহ সুলতানা পলি অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে দক্ষিণখান থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
আরও পড়ুন বুয়েট শিক্ষার্থী সানির মৃত্যু: তদন্ত প্রতিবেদন পিছিয়ে ৬ সেপ্টেম্বরশনিবার তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান। সেদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাৎ তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন।
সোমবার শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহাবুদ্দিন শেখ রিমান্ড আবেদন নাকচ করে জামিনের আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
জানা গেছে, সোহেল রানা উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার ৭ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত।
Advertisement
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সোহেল রানা স্ত্রীকে বাসায় রেখে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে কর্মস্থলে যান। বিকেলে কাউকে নিতে না দেখে তাদের মেয়ে নিজেই বাসায় ফিরে আসে। সে দেখতে পায়, ঘরের দরজা বন্ধ নয়, কেবল চাপানো ছিল। ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর মাকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। মুখের ওপর রাখা বালিশ সরিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে সে আবার স্কুলে ফিরে যায় এবং সেখান থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ফোন ব্যবহার করে বাবাকে বিষয়টি জানায়।
এমডিএএ/এএমএ