ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে কেনাকাটার ধরনে এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন আর নতুন পোশাক কিনতে সব সময় বাজার বা শপিং মলে যেতে হয় না। স্মার্টফোন আর ইন্টারনেট থাকলেই ঘরে বসে পছন্দের পোশাক অর্ডার করা সম্ভব। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা ছোট-বড় অসংখ্য অনলাইন দোকান এখন ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বর্তমানে অনেকেই ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম এই দুই প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন পেজ বা অনলাইন শপ থেকে পোশাক কিনছেন।
Advertisement
ফেসবুকে এখন হাজারো অনলাইন পোশাকের পেজ রয়েছে। এখানে শাড়ি, থ্রি-পিস, কুর্তি, গাউন থেকে শুরু করে পুরুষদের পোশাক প্রায় সব ধরনের ফ্যাশন আইটেম পাওয়া যায়। বেশিরভাগ পেজেই পণ্যের ছবি, দাম এবং অর্ডার করার নিয়ম দেওয়া থাকে। ক্রেতারা ইনবক্সে যোগাযোগ করে সহজেই অর্ডার করতে পারেন। এমনকি বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের পোশাকও কেনা যায় তাদের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম পেজের মাধ্যমে।
বেশিরভাগ অনলাইন শপ এখন ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধাও দিচ্ছে। অর্থাৎ পোশাক হাতে পাওয়ার পর টাকা পরিশোধ করা যায়। এতে ক্রেতাদের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। আবার কিছু পেজ নির্দিষ্ট শহরে নিজেদের ডেলিভারি ব্যবস্থা রেখেছে, আর দূরের জায়গায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পণ্য পাঠানো হয়।
ইনস্টাগ্রামে ফ্যাশন শপের জনপ্রিয়তাছবি ও ভিডিওভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় ইনস্টাগ্রামেও পোশাক বিক্রির প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। অনেক ছোট উদ্যোক্তা নিজেদের ডিজাইন বা সংগ্রহ করা পোশাক ইনস্টাগ্রাম পেজে তুলে ধরেন। আকর্ষণীয় ছবি, রিলস বা ছোট ভিডিওর মাধ্যমে পোশাকের ডিজাইন সহজেই দেখানো যায়।
Advertisement
অনেক বিক্রেতা এখন লাইভ ভিডিও করে পোশাক দেখান। এতে ক্রেতারা কাপড়ের রং, ডিজাইন এবং কাপড়ের ধরন অনেকটা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেন। অনেক সময় লাইভে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগও থাকে, ফলে কেনার আগে সন্দেহ দূর করা সহজ হয়।
লাইভ দেখে কেনাকাটা কেন জনপ্রিয়অনলাইনে পোশাক কেনার সময় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ছবিতে দেখানো পণ্যের সঙ্গে বাস্তব পণ্যের মিল না থাকা। কিন্তু লাইভ ভিডিওতে পোশাক দেখালে বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার হয়। বিক্রেতা লাইভে পোশাকটি কাছ থেকে দেখাতে পারেন, কাপড়ের টেক্সচার বা রঙের শেড বোঝানো যায়, এমনকি কেউ চাইলে নির্দিষ্ট পোশাকটি আবার দেখানোর অনুরোধও করতে পারেন। ফলে ক্রেতারা তুলনামূলক নিশ্চিন্ত হয়ে অর্ডার করতে পারেন।
অথেনটিক পেজ চিনবেন যেভাবেঅনলাইনে কেনাকাটার সুবিধার পাশাপাশি প্রতারণার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই পোশাক কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। প্রথমেই পেজটির ফলোয়ার সংখ্যা, রিভিউ ও ক্রেতাদের মন্তব্য দেখে নেওয়া উচিত। অনেক পুরোনো পেজে সাধারণত গ্রাহকদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার উল্লেখ থাকে।
এছাড়া পেজে নিয়মিত পোস্ট করা হচ্ছে কি না, পণ্যের বাস্তব ছবি আছে কি না এসব বিষয়ও যাচাই করা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে আসল পেজগুলোতে নিজেদের তোলা ছবি বা ভিডিও থাকে, যেখানে একই ধরনের ছবি অন্য কোথাও সহজে পাওয়া যায় না।
Advertisement
ফেক বা ভুয়া পেজ থেকে বাঁচতে হলে কিছু সতর্কতা মানা জরুরি। খুব কম দামে আকর্ষণীয় অফার দেখলে তা যাচাই না করে অর্ডার দেওয়া ঠিক নয়। অনেক প্রতারক পেজ জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ছবি ব্যবহার করে গ্রাহক আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। সম্ভব হলে আগে থেকেই পেজটির গ্রাহক প্রতিক্রিয়া দেখে নেওয়া ভালো। পাশাপাশি অগ্রিম পুরো টাকা না দিয়ে ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা থাকলে সেটিই বেছে নেওয়া নিরাপদ। প্রয়োজনে বিক্রেতার সঙ্গে ফোনে কথা বলেও নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে।
সচেতন থাকলে অনলাইন কেনাকাটা সহজফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম এখন অনলাইনে পোশাক কেনার জন্য বেশ জনপ্রিয় দুটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। লাইভ ভিডিও, গ্রাহক রিভিউ এবং ক্যাশ অন ডেলিভারির মতো সুবিধা থাকায় ক্রেতাদের আস্থা বাড়ছে। তবে অনলাইনে কেনাকাটার সময় একটু সতর্ক থাকলে প্রতারণা এড়ানো সম্ভব এবং ঘরে বসেই সহজে পছন্দের পোশাক কেনা যায়।
আরও পড়ুনফেসবুকের রিকমেন্ডেশন সাসপেন্ড হওয়ার কারণমেটাকে সরকারের চিঠি, উসকানিমূলক কনটেন্ট সরানোর অনুরোধকেএসকে