অনলাইন শপিং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি সহজ ও জনপ্রিয় অভ্যাস হয়ে উঠেছে। স্মার্টফোনে কয়েকটি ক্লিকেই পোশাক, ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পর্যন্ত ঘরে বসেই কেনা যায়। কিন্তু এই সুবিধার মাঝেই লুকিয়ে আছে এক বড় ঝুঁকি। অনেক সময় বড় ছাড়ের লোভ দেখিয়ে প্রতারকরা ভুয়া শপিং ওয়েবসাইট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে।
Advertisement
এসব ভুয়া সাইট দেখতে অনেকটাই আসল অনলাইন দোকানের মতো। ডিজাইন, পণ্যের ছবি এমনকি অফারের ব্যানারও অনেক সময় খুব আকর্ষণীয় হয়। কিন্তু সেখানে পেমেন্ট করার পর দেখা যায় পণ্য আর কখনো পৌঁছায় না। বরং গ্রাহকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নিয়ে প্রতারকরা অর্থ চুরি করে নিতে পারে।
প্রতারকদের প্রধান কৌশল হলো অস্বাভাবিক বড় ডিসকাউন্ট দেখানো। যেমন নতুন মডেলের স্মার্টফোন ৭০ বা ৮০ শতাংশ কম দামে, নামী ব্র্যান্ডের ব্যাগ অর্ধেক দামে কিংবা দামি জুতা মাত্র কয়েকশো টাকায় বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। সাধারণত বাস্তবে এ ধরনের অফার খুব কমই দেখা যায়। তাই কোনো অফার অস্বাভাবিকভাবে বেশি আকর্ষণীয় মনে হলে সেটি নিয়ে সন্দেহ করা উচিত।
ভুয়া ওয়েবসাইট চেনার একটি সহজ উপায় হলো সাইটের ঠিকানা বা ইউআরএল খেয়াল করা। অনেক সময় আসল ব্র্যান্ডের নামের সঙ্গে সামান্য পরিবর্তন এনে নতুন ডোমেইন তৈরি করা হয়। যেমন অক্ষর বদলে দেওয়া, অতিরিক্ত শব্দ যোগ করা বা অচেনা ডোমেইন এক্সটেনশন ব্যবহার করা হয়। তাই ওয়েবসাইটে ঢোকার আগে ঠিকানাটি ভালো করে দেখা জরুরি। পাশাপাশি সাইটে নিরাপদ সংযোগ (এইচটিটিপিএস) আছে কি না এবং ব্রাউজারের ঠিকানা বারে তালা চিহ্ন দেখা যাচ্ছে কি না সেটিও নিশ্চিত করা দরকার।
Advertisement
ওয়েবসাইটের মানও অনেক কিছু বোঝাতে পারে। ভুয়া সাইটে অনেক সময় ছবি অস্পষ্ট থাকে, ভাষায় বানান ভুল দেখা যায় অথবা বাক্যগুলো অস্বাভাবিক মনে হয়। অথচ পরিচিত ও বিশ্বস্ত অনলাইন শপিং সাইটগুলোতে সাধারণত পরিষ্কার ছবি, সুন্দর ডিজাইন এবং সঠিক ভাষা ব্যবহার করা হয়।
যোগাযোগের তথ্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আসল ওয়েবসাইটে সাধারণত ফোন নম্বর, ই-মেইল, অফিসের ঠিকানা এবং কাস্টমার সাপোর্টের তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। কিন্তু ভুয়া সাইটে অনেক সময় এসব তথ্য থাকে না, অথবা শুধু একটি মেসেজিং নম্বর দিয়ে রাখা হয়। ‘অ্যাবাউট আস’ পাতাটিও প্রায়ই অসম্পূর্ণ বা অন্য কোথাও থেকে কপি করা মনে হতে পারে।
আরেকটি সাধারণ কৌশল হলো ক্রেতাকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা। অনেক ভুয়া সাইটে কাউন্টডাউন টাইমার দেখানো হয় বা লেখা থাকে ‘মাত্র কয়েকটি পণ্য বাকি’। এর উদ্দেশ্য হলো আপনাকে ভাবার সময় না দিয়ে দ্রুত পেমেন্ট করতে বাধ্য করা।
কোনও সাইট সম্পর্কে সন্দেহ হলে গুগলে সেই ওয়েবসাইটের নাম লিখে তার সঙ্গে স্ক্যাম বা ফ্রড শব্দ যোগ করে খোঁজ করা যেতে পারে। অনেক সময় অন্য ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা বা সতর্কবার্তা খুঁজে পাওয়া যায়, যা সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
Advertisement
নিরাপদে অনলাইন কেনাকাটা করতে কয়েকটি সহজ অভ্যাস কাজে আসতে পারে। পরিচিত ও বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা ভালো। পেমেন্টের ক্ষেত্রে অনেকেই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকে তুলনামূলক নিরাপদ মনে করেন। সন্দেহ থাকলে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ অপশন বেছে নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া নতুন কোনো সাইটে বড় অর্ডার দেওয়ার আগে ছোট অঙ্কের লেনদেন করে পরীক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ।
অনলাইনে কেনাকাটা নিঃসন্দেহে সময় ও শ্রম বাঁচায়। তবে সামান্য অসতর্কতা বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই বড় ডিসকাউন্টের বিজ্ঞাপন দেখলে উত্তেজিত হয়ে ক্লিক করার আগে একটু যাচাই-বাছাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
আরও পড়ুনসোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল খবরের সত্যতা যাচাই করবে গুগলএখন নোটপ্যাডেও পাবেন ইমেজ সাপোর্টকেএসকে