অর্থনীতি

বড় মূলধনের কোম্পানির শেয়ারে ভর করে কিছুটা বাড়লো সূচক

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার তালিকা বড় হলেও বেড়েছে প্রধান মূল্যসূচক। মূলত বড় মূলধনের বেশি সংখ্যক কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় মূল্যসূচকের এই ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলেছে। তবে এদিন কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।  

Advertisement

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএই) দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় রয়েছে বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠান। এরপরও বেড়েছে মূল্যসূচক। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।  

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। তবে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন পার হতেই বাজারের চিত্র বদলে যেতে থাকে। দাম বাড়ার তালিকা থেকে দাম কমার তালিকায় নাম লেখাতে থাকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান।  

লেনদেনের শেষদিকে এই প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। ফলে লেনদেনের এক পর্যায়ে সূচক ঋণাত্মকও হয়ে পড়ে। তবে বেশিরভাগ বড় মূলধনের কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় মূল্যসূচক কোনো রকম বাড়ে। কিন্তু দরপতনের পাল্লা ভারী হয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।  

Advertisement

দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলিয়ে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৩১ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২০১টির। এছাড়া ৬২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে বাছাই করা ৩০ কোম্পানির মধ্যে ১৯টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮টির দাম কমেছে এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।  

এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭৬টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯৬টির দাম কমেছে এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৬টির এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।  

আরও পড়ুনবিমায় আগ্রহ নেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের, নেপথ্যে ‘আস্থার সংকট’ বিপিসিতে বড় রদবদল 

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৯টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৯টির এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৬টির দাম বেড়েছে এবং ১২টির দাম কমেছে। পাশাপাশি ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।  

Advertisement

দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পরও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় এক পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৬ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৯৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ সূচক শূন্য দশমিক ২৯ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।  

প্রধান মূল্যসূচক সামান্য বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮০৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৩০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।  

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা একমি পেস্টিসাইডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ১২ লাখ টাকার। ২৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।  

এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ইস্টার্ন ব্যাংক, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, শাইনপুকুর সিরামিক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, শাহজিবাজার পাওয়ার এবং সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ।  

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৮৮টির এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। 

এমএএস/কেএসআর