মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে। এর সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে রাইড শেয়ারিং খাতে। এর মধ্যে সব ধরনের জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে রাইড শেয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যানের চালকরা আরও বেশি বিপাকে পড়েছেন।
Advertisement
চালকদের অভিযোগ, প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়া যায় না। এতে ট্রিপের সংখ্যা কমছে, আয়ও কমছে। অন্যদিকে, রাস্তায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রাইড শেয়ারিংয়ে যাত্রী কমে গেছে। সামান্য বেশি ভাড়া চাইলেই যাত্রীরা বিকল্প বাহনে চলে যাচ্ছেন।
জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর রাস্তায় যেন থমকে গেছে রাইড শেয়ারিং চালকদের চাকা। আয় কমে অর্ধেকে নেমেছে, আর পেট্রোল পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে দিনের বড় একটি অংশ কাটছে তাদের। মোটরসাইকেলভিত্তিক এই শ্রমজীবী মানুষগুলো এমন বাস্তবতায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
জ্বালানি তেল নিতে পেট্রোল পাম্পের সামনে অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেলচালকরা/ ছবি: জাগো নিউজ
Advertisement
দাম বাড়ায় জ্বালানিতে খরচ বেড়েছে চালকদেরগতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা করা হয়েছে। অকটেনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৪০ টাকা। আগে দাম ছিল ১২০ টাকা। পেট্রোলের দাম লিটারে বেড়েছে ১৯ টাকা। আগে ১১৬ টাকায় বিক্রি হলেও এখন করা হচ্ছে ১৩৫ টাকা। কেরোসিনের দাম লিটারে ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর রাস্তায় যেন থমকে গেছে রাইড শেয়ারিং চালকদের চাকা। আয় কমে অর্ধেকে নেমেছে, আর পেট্রোল পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে দিনের বড় একটি অংশ কাটছে তাদের। মোটরসাইকেলভিত্তিক এই শ্রমজীবী মানুষগুলো এমন বাস্তবতায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন।
ট্রিপের সংখ্যা, আয় দুটিই কমেছেরোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর ধানমন্ডি, রমনা, তেজগাঁও, গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় কথা হয় একাধিক রাইড শেয়ারিং চালকের সঙ্গে। তারা জানান, গত এক মাসে তাদের আয় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। আগে সকালের ব্যস্ত সময় যাত্রী নিয়ে কাটলেও এখন সেই সময়ের বড় অংশ চলে যাচ্ছে পেট্রোল পাম্পের লাইনে দাঁড়িয়ে।
আরও পড়ুনতেলের দাম বাড়ায় রাইডশেয়ারের মোটরসাইকেলে বেড়েছে ভাড়াজ্বালানি সংকটে আয়-রোজগারে টান, বিপাকে রাইড শেয়ারিং চালকরাব্যবহারকারী-বান্ধব রাইড শেয়ারিং নীতিমালা চাইসরকার বাধ্য হয়েই তেলের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানিমন্ত্রীসরকার বলছে অভাব নেই, তাহলে তেল পাই না কেন— প্রশ্ন রাইড শেয়ারিং চালকের
Advertisement
চালকদের অভিযোগ, প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়া যায় না। এতে ট্রিপের সংখ্যা কমছে, আয়ও কমছে। অন্যদিকে, রাস্তায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রাইড শেয়ারিংয়ে যাত্রী কমে গেছে। সামান্য বেশি ভাড়া চাইলেই যাত্রীরা বিকল্প বাহনে চলে যাচ্ছেন।
জ্বালানি তেল সংগ্রহে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন রাইড শেয়ারিং চালকরা/ ছবি: জাগো নিউজ
রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় কথা হয় মোটরসাইকেলচালক রাসেল আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আগে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চলতো। এখন তেলের দাম বেড়েছে কিন্তু যাত্রী কমেছে। এতে বাইক নিয়ে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।’
আরও পড়ুন‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আর কতদিন তেল নিতে হবে?’বাড়লো সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম, মধ্যরাত থেকে কার্যকরতেলের দাম বাড়লো, কমলো না ভিড়: পাম্পে আগের মতোই দীর্ঘ অপেক্ষা
ক্ষোভজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের কোথায় যুদ্ধ হচ্ছে, তার মাশুল দিচ্ছি আমরা সাধারণ চালকরা। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।’
‘আগে যা আয় হতো, তা দিয়ে কোনোভাবে সংসার চলতো। এখন তেলের দাম বেড়েছে কিন্তু যাত্রী কমেছে। এতে বাইক নিয়ে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।’—রাসেল আক্তার, মোটরসাইকেলচালক
গুলিস্তানগামী এক যাত্রীর সঙ্গে ভাড়ার দরকষাকষির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে চালক আবুল খায়ের বলেন, পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়েছে। আগে যেখানে ১০০ টাকায় যেতাম, এখন ১২০ টাকা চাইলে যাত্রীরা রাজি হন না।
গুলশান এলাকার সোহেল আক্তার জানান, কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনে জীবিকা শুরু করেছিলেন তিনি। আগে আয় থেকে কিস্তি শোধ করা সম্ভব হলেও এখন তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আয় কমে গেছে। নতুন করে তেলের দাম বাড়ায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’—বলেন তিনি।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা হয়/ছবি: এআই
‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আয় কমে গেছে। নতুন করে তেলের দাম বাড়ায় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’—সোহেল আক্তার, মোটরসাইকেলচালক
মগবাজার এলাকায় তেলের জন্য অপেক্ষমাণ সোহান আক্তার বলেন, আগে দিনে অনেক ট্রিপ দেওয়া যেতো। এখন তেলের সংকট ও কম যাত্রীর কারণে ট্রিপ কমে গেছে। এভাবে চললে পেশা পরিবর্তন ছাড়া উপায় থাকবে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু পরিবহন ব্যয় বাড়ায়নি; বরং রাইড শেয়ারিংয়ের মতো স্বনির্ভর পেশার হাজারো মানুষের জীবিকাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শহরের বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থার একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এমইউ/এমএমকে