একুশে বইমেলা

কিশোরগঞ্জে বইমেলা পরিদর্শন ও সাহিত্য আড্ডা

সাব্বির হাসান নিরব

Advertisement

দিনটি ছিল রোদেলা ও উজ্জ্বল। বৈশাখের সকালের সেই তপ্ত রোদের তীব্রতা শরীরে অনুভূত হচ্ছিল। তবুও পূর্বনির্ধারিত গন্তব্যের টানে বেরিয়ে পড়লাম। আমার সঙ্গে ছিল বন্ধু আকরাম হুসাইন। বাসে চড়ে আমরা প্রথমে কিশোরগঞ্জের জেলখানা মোড়ে পৌঁছলাম। সেখান থেকে অটোতে করে পা রাখলাম বিখ্যাত পাগলা মসজিদ প্রাঙ্গণে। পবিত্র জুমার দিন হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুসল্লির ভিড়ে মসজিদ প্রাঙ্গণ মুখরিত। আমরা পৌঁছতে কিছুটা দেরী করায় মনে সংশয় ছিল যে, নামাজের জায়গা পাবো কি না।

​নামাজ শেষে আমাদের মূল গন্তব্য ছিল কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণ। বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ‘ব্রহ্মপুত্র’ টিমের উদ্যোগে সেখানে বর্ষবরণ, বইমেলা পরিদর্শন ও দ্বিমাসিক সাহিত্য আড্ডার আয়োজন করা হয়েছিল। একে একে টিমের সদস্যরাও উপস্থিত হলেন।

​শুরুতেই আমরা গুরুদয়াল সরকারি কলেজের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে আয়োজিত বইমেলায় গেলাম। হরেক রকমের বইয়ের সমারোহে নিজেকে যেন হারিয়ে ফেলছিলাম। এরই মধ্যে মুস্তাকিম হাসান এক বিক্রেতাকে মেলায় লোকসমাগম কম হওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছুটা আক্ষেপের সুরেই বললেন, ‘বইমেলায় মানুষ আসবে কেন? এখানে যদি গানের কনসার্ট বা যাত্রাপালা হতো, তবে উপচেপড়া ভিড় দেখা যেত।’ কথাটি আমার হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করলো। আধুনিক যুগে আমরা যেন ক্রমশ বই ও সাহিত্যচর্চা থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। বিনোদনের জন্য সময় থাকলেও মননশীলতার চর্চায় আমাদের বড় অভাব।

Advertisement

আরও পড়ুনস্বাধীনতা বইমেলা: গড়ে উঠুক বইয়ের রাজ্য 

মেলা পরিদর্শন শেষে আমরা একটি নিরিবিলি জায়গার সন্ধানে বের হলাম। কলেজের মুক্তমঞ্চে তখন মানুষের উপচেপড়া ভিড়। তাই আমরা একান্তে বসার মতো একটি স্থান বেছে নিলাম। সেখানে সাংগঠনিক পরিচিতি পর্বের মাধ্যমে আড্ডা শুরু হলো। আলোচনার মূল বিষয় ছিল বাংলা নববর্ষের সঙ্গে সাহিত্যের নিবিড় যোগসূত্র এবং লেখালেখির নানা দিক।

এরপর শুরু হলো প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক পর্ব। আমাদের টিমের বন্যা রানী বৈষ্ণব ও সনিয়া আক্তার চমৎকার গান গাইলেন। বন্যা দিদির কণ্ঠে ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ গানটির সাথে সবাই তাল মেলালাম। পরপরই সনিয়া আপু গাইলেন জনপ্রিয় ছায়াছবির গান ‘ভালো আছি ভালো থেকো’। সুরের মূর্ছনায় আড্ডাটি বেশ জমে উঠেছিল।

​গানের রেশ কাটতে না কাটতেই মুস্তাকিম হাসান স্বরচিত কবিতা ‘শূন্য আমার বা-পাশ’ আবৃত্তি করলেন। তার চমৎকার শব্দচয়ন ও সুমধুর কণ্ঠের আবৃত্তি আমাদের মুগ্ধ করলো। সবশেষে সনিয়া আপুর স্বরচিত কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে আড্ডার সমাপ্তি ঘোষণা করা হলো।

আরও পড়ুননারী শিক্ষায় বেগম খালেদা জিয়া: সপ্তাহব্যাপী বই বিতরণ 

​গ্রীষ্মের তপ্ত বিকেলে গরমে সবাই কিছুটা ক্লান্ত থাকলেও সবার মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। আড্ডা শেষে এক গ্লাস ঠান্ডা লেবুর শরবত যেন প্রাণ জুড়িয়ে দিলো। এরপর হালকা নাস্তা সেরে আমরা নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে চললাম। ব্রহ্মপুত্র টিমের বর্ষবরণ, বইমেলা পরিদর্শন ও সাহিত্য আড্ডা আমাদের সবার স্মৃতিতে অসাধারণ মুহূর্ত হয়ে থাকবে। এমন সাহিত্যিক ও আনন্দময় মুহূর্তগুলো বারবার ফিরে আসুক।

Advertisement

লেখক: অনার্স তৃতীয় বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বাজিতপুর সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ।

এসইউ