গরম থেকে বাঁচতে এসি চালানো এখন অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু আরামদায়ক ঠান্ডার মাঝেই চুপিসারে শুরু হয় কিছু অস্বস্তি। ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, গলা শুকিয়ে আসা কিংবা ঘুমের ব্যাঘাত। অনেকেই বুঝতেই পারেন না, এর পেছনে দায়ী ঘরের কমে যাওয়া আর্দ্রতা। তবে চিন্তার কিছু নেই, খুব সহজ একটি ঘরোয়া উপায়েই মিলতে পারে স্বস্তি। শুধু ঘরে একটি পানিভর্তি বালতি রাখলেই কমে যেতে পারে এসির এই অস্বস্তিকর প্রভাব।
Advertisement
এর মূল কারণ হলো, এসি ঘরের বাতাস ঠান্ডা করার পাশাপাশি আর্দ্রতাও কমিয়ে দেয়। ফলে ঘরের পরিবেশ অনেকটাই শুষ্ক হয়ে ওঠে, যা ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে এই সমস্যার সমাধান খুব জটিল কিছু নয়। ঘরে একটি পানিভর্তি বালতি রাখলেই অনেকটাই উপকার পাওয়া যায়।
পানিভর্তি বালতি আসলে প্রাকৃতিক হিউমিডিফায়ারের মতো কাজ করে। ধীরে ধীরে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে বাতাসে মিশে যায়, ফলে ঘরের আর্দ্রতা কিছুটা হলেও বজায় থাকে। এতে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে, গলার অস্বস্তি হ্রাস পায় এবং শ্বাস নেওয়াও সহজ হয়।
শুধু তাই নয়, যারা সাইনাস বা শ্বাসকষ্টে ভোগেন, তাদের জন্য এই পদ্ধতি বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে। শুষ্ক বাতাস নাক ও গলার ভেতরকার অংশকে বেশি সংবেদনশীল করে তোলে, ফলে সমস্যা বাড়ে। সেখানে সামান্য আর্দ্রতা এই অস্বস্তি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।
Advertisement
এসি চলা ঘরে দীর্ঘ সময় থাকলে ঠোঁট ফেটে যাওয়া, চোখে জ্বালাপোড়া কিংবা নাক শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। এমনকি অতিরিক্ত শুষ্ক পরিবেশে কাঠের আসবাবপত্রে ফাটল ধরতে পারে বা ঘরের গাছপালাও দ্রুত শুকিয়ে যেতে পারে। এক বালতি পানি এই পরিস্থিতি কিছুটা হলেও সামাল দিতে সাহায্য করে।
ঘুমের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব আছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, এসি চালিয়ে ঘুমালে মাঝরাতে গলা শুকিয়ে যায় বা নাক বন্ধ হয়ে যায়। এর পেছনেও দায়ী শুষ্ক বাতাস। ঘরে সামান্য আর্দ্রতা থাকলে ঘুম হয় বেশি আরামদায়ক এবং নিরবচ্ছিন্ন।
কীভাবে ব্যবহার করবেন?ঘরের এক পাশে বা জানালার কাছে একটি পানিভর্তি বালতি রেখে দিন। প্রতিদিন পানি বদলানো জরুরি, না হলে মশা জন্মাতে পারে। চাইলে পানিতে লেবুর খোসা বা কয়েক ফোঁটা সুগন্ধি তেল মিশিয়ে ঘরে হালকা সুবাসও আনতে পারেন। সব মিলিয়ে, খুব সাধারণ এই পদ্ধতিটি এসির ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা কমিয়ে এনে আপনাকে আরও আরামদায়ক পরিবেশ দিতে পারে।
জেএস/
Advertisement