দেশজুড়ে

পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মাঝে ছাঁটাই আতঙ্ক

বৈশ্বিক অবস্থা, অর্ডার কমে যাওয়া, জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিং- সবমিলিয়ে নারায়ণগঞ্জের শিল্প মালিকরা বেশ সংকটের মধ্য রয়েছেন। এরই মধ্যে তাদের উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমে এসেছে। এভাবে সংকট চলমান থাকলে শিল্প কারখানার উৎপাদন আরও কমে যাবে।

Advertisement

উৎপাদন কমে গেলে কর্মসংস্থানও কমে যাবে। ফলে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও শ্রমিক ছাঁটাই আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে শ্রমিকরাও রয়েছেন ছাঁটাই আতঙ্কে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় এক হাজার ৮৩৪টি পোশাক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার বেশিরভাগেই আগের থেকে উৎপাদন কমেছে। হাতেগোনা বড় বড় কয়েকটি কারখানা কোনো রকম উৎপাদন ধরে রাখতে পারলেও ছোট কারখানাগুলোর জন্য টিকে থাকাই কষ্টকর বলছে কর্তৃপক্ষ।

চাকরিচ্যুত ইউনাইটেড গার্মেন্টসের সুপারভাইজার মো. কবির হোসেন বলেন, গত কয়েকমাস ধরেই আমার বেতন দিচ্ছিল না। এরই মধ্যে হঠাৎ করে আমিসহ অনেককেই ছাঁটাই করে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় আমাদের মানবেতর দিনযাপন করতে হচ্ছে।

Advertisement

আবির ফ্যাশনের শ্রমিক মো. মিজান বলেন, ঈদের পর গার্মেন্টসে যাওয়ার পরই মালিকপক্ষ বলছে তাদের অর্ডার নেই। তাই আমাদের কোনো কাজ নেই। ফলে আমাদের আর প্রয়োজন নেই। আমাদের আর গার্মেন্টসে আসতে হবে না। আমরা যেন অন্য কোথাও কাজ খুঁজে নেই। কিন্তু এইসময়ে কোথায় কাজ খুঁজে পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছি না। এই অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিন্তায় আছি।

অনেকদিন মডেল গার্মেন্টসে কাজ করে আসছেন মো. আতাউর। তিনি বলেন, আমাদের গার্মেন্টসে অনেককেই ছাঁটাই করা হয়েছে। মালিকপক্ষ বলছে তাদের নাকি কাজ কমে গেছে। এই অবস্থায় যেকোনো সময় চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছি।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি ঈদের আগে এবং পরে ব্যাপকভাবে শ্রমিক ছাঁটাই করা হচ্ছে। ঈদের পরে ইউনাইটেড গার্মেন্টস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবির ফ্যাশনের শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আর এভাবে প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকলে শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক অস্থিরতা চলে আসতে পারে। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে নারায়ণগঞ্জে প্রায় ২ হাজারেও বেশি শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, আমাদের উৎপাদন কমেছে যুদ্ধ বিগ্রহের জন্য। অর্ডার কম, তাই কাজও কম। কাজ কমতে থাকলে অতিরিক্ত জনবল ছাঁটাই করতে হবে। এরই মধ্যে ১৫ থেকে ২০ পার্সেন্ট উৎপাদন কমে এসেছে। আর এটা ক্রমেই বাড়তে থাকবে। উৎপাদন কমে গেলে কর্মসংস্থান কমে যাবে। কারণ কেউ বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিবে না। এটা সম্ভবও নয়।

Advertisement

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এফএ/এএসএম