হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন, জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট সেবা এবং ফি নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি যৌথ কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে ইরান ও ওমান। ইরানি প্রতিনিধিদল, ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারেক এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বোসাইদি-এর মধ্যে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
Advertisement
মঙ্গলবার (২৩ জুন) মাসকাট সফরকালে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির উপস্থিতিতে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত নতুন কমিটি হরমুজ প্রণালিতে ভবিষ্যৎ জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক ট্রাফিক-সংক্রান্ত সেবা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এসব সেবার জন্য ধার্য করা ফি নিয়ে পর্যালোচনা করবে।
এছাড়া, এই কৌশলগত জলপথ-সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য উপকূলীয় রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে পরামর্শ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছে তেহরান ও মাসকাট।
Advertisement
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দুই উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরান ও ওমান আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে এই জলপথে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছে। এতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি-সংক্রান্ত সব ব্যবস্থা অবশ্যই দুই উপকূলীয় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও সার্বভৌম অধিকারকে পুরোপুরি সম্মান করবে।
ওমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের (MoU) প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং এর সফল বাস্তবায়নের জন্য ধারাবাহিক সংলাপ ও সমন্বয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। দুই দেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেছে।
এদিকে, পার্লামেন্ট স্পিকার ঘালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালি আর কখনো যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এর প্রশাসন ইরানের হাতে থাকবে।
গত রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ধারাবাহিক নিবিড় আলোচনার পর সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত হয়েছে।
Advertisement
এই চুক্তিতে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজিটাল মাধ্যমে দূরবর্তীভাবে স্বাক্ষর করেন।
রোববার সুইজারল্যান্ডে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের পক্ষে ঘালিবাফ ও আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকভ এবং জেরিড কুশনার অংশ নেন।
বৈঠকে মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার রাজনৈতিক তদারকির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। মধ্যস্থতাকারীদের মতে, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিনের একটি রোডম্যাপে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে এবং শিগগির কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হবে।
এছাড়া, সমঝোতা স্মারকের ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে একটি সরাসরি যোগাযোগ চ্যানেল স্থাপন করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধ করা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।
সূত্র: প্রেস টিভিকেএম