সরকারি কলেজের শিক্ষক এবং বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থায় কর্মরত বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় নতুন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
Advertisement
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষাসচিব আবদুল খালেকের সই করা এ প্রজ্ঞাপন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ সংক্রান্ত আগের সব নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় বলা হয়, একই কর্মস্থলে ন্যূনতম দুই বছর চাকরি পূর্ণ না হলে বদলির আবেদন করা যাবে না। পাশাপাশি বদলি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে তিন স্তরের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে ‘বিসিএস (সাধারণ) শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
Advertisement
নীতিমালায় আরও বলা হয়, সরকারি কলেজে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে এবং প্রশাসনিক প্রয়োজন অনুযায়ী বদলি ও পদায়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় যেকোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তাকে যেকোনো পদে বা কর্মস্থলে বদলি বা পদায়নের পূর্ণ এখতিয়ার সংরক্ষণ করবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, নবনিয়োগপ্রাপ্ত প্রভাষকসহ সব শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে একই কর্মস্থলে ন্যূনতম দুই বছর চাকরি করতে হবে। দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বদলির আবেদন করা যাবে না। তবে গুরুতর শারীরিক, মানসিক বা পারিবারিক জরুরি পরিস্থিতিতে যুক্তিসংগত কারণ থাকলে সরকার বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় নিতে পারবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রী উভয়েই চাকরিজীবী হলে স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল কিংবা নিকটবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বদলির আবেদন করা যাবে। অবসর-পূর্ব প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার এক বছর আগে কোনো কর্মকর্তা তাঁর সুবিধাজনক স্থানে বদলির আবেদন করলে, পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
নতুন নীতিমালায় বদলির ক্ষেত্রে কড়াকড়িও আরোপ করা হয়েছে। বিভাগীয় মামলা চলমান থাকলে বা কোনো অভিযোগ তদন্তাধীন থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মকর্তা বদলির আবেদন করতে পারবেন না।
Advertisement
গত তিন বছরের বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) সন্তোষজনক না হলেও বদলির আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে না। প্রেষণাদেশ মঞ্জুরের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করা হবে। সংযুক্তি বা ওএসডি করার একক ক্ষমতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকবে। নীতিমালায় উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরকারি কলেজগুলোর শূন্য পদে অগ্রাধিকারভিত্তিতে শিক্ষক পদায়নের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বদলি প্রক্রিয়াকে আরও সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ করতে তিন স্তরের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরমধ্যে অঞ্চলভিত্তিক আঞ্চলিক কমিটি প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের বদলির আবেদন বাছাই এবং আদেশ জারি করবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের নেতৃত্বাধীন কমিটি ঢাকা মহানগর এবং দাপ্তরিক পদ ছাড়া সহযোগী অধ্যাপক পর্যায়ের বদলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
আর শিক্ষা সচিবের সভাপতিত্বে গঠিত মন্ত্রণালয় কমিটি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং দপ্তর-সংস্থার বিভিন্ন পদের বদলি ও পদায়নের সুপারিশ করবে এবং এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করবে।
এএএইচ/এমএএইচ/