রাজপথ ছিল প্রায় নিস্তব্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় ছিল কার্যত অচল। নগরের প্রবেশপথে চেকপোস্ট, মেসে মেসে অভিযান, সমন্বয়কদের আত্মগোপন আর গ্রেফতারের আতঙ্কে থমথমে পরিবেশ। তবু থেমে থাকেনি আন্দোলন। প্রকাশ্যে না হলেও আড়ালে চলছিল যোগাযোগ, সংগঠন ও পরবর্তী কর্মসূচির প্রস্তুতি। ২০২৪ সালের ২ আগস্ট রাজশাহীর দিনটি ছিল দৃশ্যমান প্রতিবাদের চেয়ে নীরব প্রতিরোধের—যে প্রস্তুতি পরদিন রাজপথে নতুন গতি এনে দেয় গণঅভ্যুত্থানকে।
Advertisement
ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত ‘দ্রোহযাত্রা’ কর্মসূচিতে হাজারো মানুষ অংশ নিলেও রাজশাহী মহানগরীতে সেদিন কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। রাজশাহীজুড়ে বিরাজ করছিল থমথমে ও আতঙ্কঘন পরিবেশ। নগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, প্রবেশপথ ও বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। একই সঙ্গে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় ছিলেন। ফলে প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালনের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অনেক শিক্ষার্থী ও সমন্বয়ককে নিরাপত্তাজনিত কারণে আত্মগোপনে থাকতে হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার প্রাণহানি এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড়ের খবর মানুষের মধ্যে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল। সেই ক্ষোভ ২ আগস্টের দ্রোহযাত্রায় নতুন মাত্রা পায়। ঢাকায় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হওয়া দ্রোহযাত্রা দোয়েল চত্বর, টিএসসি হয়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার পর্যন্ত পৌঁছায়। হাজারো মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত স্লোগান, হাতে ধরা প্ল্যাকার্ড এবং স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অভিব্যক্তি তখন আন্দোলনের পরিবর্তিত চরিত্রকে স্পষ্ট করে তুলছিল।
আরও পড়ুন সংগ্রামের ৩৬ দিন / অনেকের কাছেই জুলাইয়ের সেই স্মৃতি এখনো জীবন্তদ্রোহযাত্রায় অংশ নেওয়া আইনজীবী মানজুর আল মতিন সেদিনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, যখন আমরা হাঁটা শুরু করলাম, আমি মিছিলের মাঝামাঝি ছিলাম। সামনে-পেছনে মিছিলের শুরু কোথায়, শেষ কোথায়—সেটা দেখা যাচ্ছিল না। এত মানুষ সেদিন জড়ো হয়েছিলেন। মানুষের ক্ষোভ ও দ্রোহ মিছিলের স্লোগান এবং তাদের অভিব্যক্তি থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছিল। আমার মনে হয়েছিল, এ সরকারের সময় ফুরিয়ে আসছে।
Advertisement
‘২ আগস্টের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের কয়েকজন সমন্বয়ককে নিরাপদ স্থানে রাখতে হয়। এ কারণে সেদিনের কর্মসূচি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি’
জুলাইজুড়ে সংঘটিত সহিংসতা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মৃত্যু এবং আন্দোলন দমনে ব্যাপক ধরপাকড় জনমনে যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল, আগস্টে এসে তা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। আন্দোলনের গতিপথও দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে। কোটা সংস্কারের দাবি ছাড়িয়ে আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনের দিকে অগ্রসর হয়। ছাত্র-জনতার রক্তের দায়, ন্যায়বিচারের দাবি এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের অবসানের আকাঙ্ক্ষা তখন আন্দোলনের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসানের দাবিতে এক দফা ঘোষণা করা হয়। সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয় এবং হাসপাতাল, ফার্মেসি, জরুরি পরিবহন, গণমাধ্যম ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের মতো জরুরি সেবা ছাড়া অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়।
এক দফা ঘোষণার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম পরে বলেন, এক দফার মাধ্যমে আমরা বলতে চেয়েছি, শুধু রেজিমের পরিবর্তন নয়; বরং রাষ্ট্রের বন্দোবস্তের পরিবর্তন, সংস্কার এবং বাংলাদেশে যাতে আর কখনো স্বৈরতন্ত্র ফিরে না আসতে পারে, সে রকম একটি গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত তৈরি করতে হবে। সে জায়গা থেকেই আমরা ৩ আগস্ট এক দফা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ওই দিন শহিদ মিনার থেকে জনগণই এ ঘোষণা দিয়েছিল, আমরা শুধু সেটির প্রতিধ্বনি করেছিলাম।
Advertisement
তবে ঢাকার আন্দোলনের উত্তাপ যখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন রাজশাহীর পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। কারফিউ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। ফলে শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড় পরিসরে আন্দোলন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে স্থানীয় জনগণ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়।
আরও পড়ুন ফিরে দেখা ২২ জুলাই / চারদিকে শুধু গুলি-ধোঁয়া আর মানুষে আর্তচিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে সাভারআন্দোলনের সঙ্গে যুক্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯ দফা দাবি ঘোষণার পর থেকেই রাজশাহীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। আন্দোলনে সক্রিয় শিক্ষার্থী ও সমন্বয়কদের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারের আশঙ্কায় কয়েকজন সমন্বয়ককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তারা কিছু সময় একটি পরিত্যক্ত ভবনে আশ্রয় নেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা ও সফলতার জন্য বিভিন্ন মসজিদে দোয়া চাওয়ার বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
‘যখন আমরা হাঁটা শুরু করলাম, আমি মিছিলের মাঝামাঝি ছিলাম। সামনে-পেছনে মিছিলের শুরু কোথায়, শেষ কোথায়—সেটা দেখা যাচ্ছিল না। এত মানুষ সেদিন জড়ো হয়েছিলেন। মানুষের ক্ষোভ ও দ্রোহ মিছিলের স্লোগান এবং তাদের অভিব্যক্তি থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছিল। আমার মনে হয়েছিল, এ সরকারের সময় ফুরিয়ে আসছে’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মেহেদী সজিব বলেন বলেন, ২ আগস্টের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের কয়েকজন সমন্বয়ককে নিরাপদ স্থানে রাখতে হয়। এ কারণে সেদিনের কর্মসূচি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, তবে আমরা আন্দোলন থেকে সরে যাইনি। পরদিনের কর্মসূচি সফল করতে ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্রদল, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। ঝুঁকির মধ্যেও আমরা আন্দোলন বাস্তবায়নের কাজ চালিয়ে গেছি। শেষ পর্যন্ত সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিলেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২ আগস্টও রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। নগরের বিভিন্ন মেস ও শিক্ষার্থীদের আবাসস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত ছিল। একই সময়ে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায় বলে আন্দোলনসংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন। কয়েকটি এলাকায় শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা জানান।
নগরজুড়ে এমন কঠোর নজরদারি ও গ্রেফতার-আতঙ্কের মধ্যেও আন্দোলনের প্রস্তুতি থেমে থাকেনি। ২৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন বলে রাজশাহীর আন্দোলন-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ২ আগস্টের পরদিন বড় কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের কাজ চলতে থাকে। এই সমন্বয়ই পরবর্তী সময়ে রাজশাহীতে আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন ফিরে দেখা ১ আগস্ট / রাবি থেকে শিক্ষার্থীদের তুলে নেওয়ার চেষ্টা, ঢাল হয়ে দাঁড়ান শিক্ষকরা২ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় আশিকুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থীকে প্রধান ফটক থেকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে মতিহার থানায় নেওয়া হয়। শিক্ষার্থী আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক তার মুক্তির জন্য উদ্যোগ নেন।
সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টরের সঙ্গে আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ এবং অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান মতিহার থানায় যান। তারা দীর্ঘ সময় থানায় অবস্থান করেন এবং শিক্ষার্থীকে মুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশিকুর রহমানকে শিক্ষকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। সমসাময়িক সংবাদে জানা যায়, যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
রাবির শিক্ষক ও আন্দোলনের সম্মুখসারির একজন সংগঠক অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, শিক্ষার্থীকে আটকের খবর পাওয়ার পর আমরা থানায় যাই এবং তার মুক্তির জন্য সেখানে অবস্থান করি। শেষ পর্যন্ত তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হই। আমরা সব সময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
এর আগের দিনও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটকের ঘটনা ঘটেছিল। তাদের মুক্তির দাবিতে শিক্ষকরা থানায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। আন্দোলনের সেই দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তির উদ্যোগ নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষক সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
২ আগস্ট রাজশাহীর রাজপথে বড় কোনো গণমিছিল না হলেও দিনটি ছিল আন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে নগরজুড়ে ছিল গ্রেফতার-আতঙ্ক, কঠোর নজরদারি ও দমন-পীড়নের আশঙ্কা; অন্যদিকে গোপনে চলছিল পরদিনের কর্মসূচির প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয়। প্রকাশ্য কর্মসূচি সীমিত থাকলেও আন্দোলনের ভেতরের সংগঠন, যোগাযোগ ও প্রতিরোধের প্রস্তুতি থেমে ছিল না।
পরদিন ৩ আগস্ট সেই প্রস্তুতিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। রাজশাহীতে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে আন্দোলন নতুন গতি পায় এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমে আসেন। ফলে ২ আগস্টের থমথমে পরিবেশকে শুধু নীরবতার দিন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি ছিল ভয়, দমন-পীড়ন ও গণগ্রেফতারের মধ্যেও পরবর্তী দিনের বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি ও পুনর্গঠনের দিন।
আরও পড়ুন প্রধান উপদেষ্টা / জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিশ্বে নজিরবিহীন দৃষ্টান্তস্মৃতিচারণ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, সেই সময় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা সারাক্ষণ উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলাম। যখন জানতে পারলাম একজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে আটক করে মতিহার থানায় নেওয়া হয়েছে, তখন আমরা আর বসে থাকতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ছিল শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো। তাই আমরা থানায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলি এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করি। আমাদের একটাই কথা ছিল—যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকে, তাহলে একজন শিক্ষার্থীকে অযথা আটকে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। পরে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাকে মুক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হই।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের দিনগুলোতে শিক্ষক হিসেবে আমাদের ভূমিকা শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের মনোবল ধরে রাখা এবং যে-কোনো অন্যায় বা হয়রানির বিরুদ্ধে মানবিক অবস্থান নেওয়াও ছিল আমাদের দায়িত্ব। সেদিন থানা থেকে শিক্ষার্থীকে মুক্ত করে আনার ঘটনাটি ছিল সেই দায়িত্ববোধেরই একটি অংশ। সংকটময় সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক আস্থা ও একাত্মতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল।”
কেএইচকে/জেআইএম