জাতীয়

বাসায় ঢুকে স্ত্রী-শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগ, নিয়ে গেলেন শিশুপুত্রকে

রাজধানীর কলাবাগান থানার কাঁঠালবাগান এলাকার একটি বাসায় মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শিপন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

Advertisement

নিহতরা হলেন- ফারজানা আক্তার রাত্রি (২১) ও ফিরোজা বেগম (৩৫)। হত্যাকাণ্ডের পর এক বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে পালিয়ে যান শিপন।

নিহত ফিরোজার স্বামী ফারুক হোসেন বলেছেন, অভিযুক্ত শিপন তার মেয়ে ফারজানা আক্তার রাত্রির স্বামী। তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়েছিল। আবার একসঙ্গে সংসার শুরু করেন তারা।

রাত্রির চাচাতো বোন সুমাইয়া বলেন, প্রেমের সম্পর্কে রাত্রির বিয়ে হলেও তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকতো। আগে তাদের মধ্যে তাদের বিচ্ছেদ হলেও পারিবারিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে আবার একসঙ্গে সংসার শুরু করেন তারা।

Advertisement

নিহত ফিরোজাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা তার স্বামী ফারুক হোসেন বলেন, সকাল ৯টার দিকে কাঁঠালবাগানের ভাড়া বাসায় এসে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমার স্ত্রী ফিরোজা ও মেয়ে ফারজানাকে ছুরিকাঘত করে পালিয়ে যায় আমার মেয়ের জামাই শিপন।

আরও পড়ুন খিলগাঁওয়ে তুলে নিয়ে মারধর করা ব্যবসায়ী দিপু মারা গেছেন

তিনি বলেন, গত শুক্রবার ভাতিজার বিয়েতে গ্রামে গিয়েছিল মা ও মেয়ে। সেখানে শিপনও ছিল। বিয়ের দিন ফারজানা ও তার স্বামী শিপনের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। তখন বিয়ের অনুষ্ঠানে না খেয়েই শিপন ঢাকায় চলে আসে।

ফারুক হোসেন আরও বলেন, শনিবার (১ আগস্ট) আমরা সবাই গ্রাম থেকে ঢাকায় চলে আসি। আজ সকালে আমি বাড়িতে না থাকায় শিপন বাসায় আসে। সেই পুরোনো বিষয় নিয়েই ফারজানা ও শিপনের ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে শিপন ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার স্ত্রী ও মেয়েকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই আমার মেয়ে মারা যায়।

তিনি বলেন, রায়হান নামে আমার মেয়ের এক বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। মা-মেয়েকে হত্যার পর শিশুপুত্রকে নিয়ে পালিয়ে যায় শিপন। ঘাতক শিপন রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় বসবাস করে।

Advertisement

ফারুক হোসেন জানান, তাদের বাড়ি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার বাদগাঁও গ্রামে। ঢাকায় কাঁঠালবাগান আল-আমিন মসজিদ রোডের একটি বাসায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন তারা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ মর্গে রাখা আছে।

কেএজেডআইএ/বিএ