প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট নবায়ন সংক্রান্ত আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই মাসের মধ্যে পেন্ডিং আবেদন নিষ্পত্তি করে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন আদালত।
Advertisement
একই সঙ্গে প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট বা নবায়নের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বহীনতা কেন বেআইনি অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এই সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা আবেদন শুনানি নিয়ে রোববার (২ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি হাবিবুল গনি এবং বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষের শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি( মোহাম্মদ জিসান হায়দার।
Advertisement
আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করে মনজিল মোরসেদ জানান, প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন দীর্ঘদিন থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে না এমন অভিযোগের খবর দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিচ ফর বাংলাদেশ (এইচ আর পিবি) এর পক্ষ থেকে এক রিট পিটিশন দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুন পুরোনো ডেটা দিয়ে নতুন ই–পাসপোর্ট আবেদনের সুযোগ চান প্রবাসীরাশুনানি শেষে আদালত আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্টবা নবায়ন এর পেন্ডিং আবেদন নিষ্পত্তির আদেশ দিয়েছেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে কম্প্লাইন্স রিপোর্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, অন্য এক আদেশে আদালত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ২১ দিনের মধ্যে চিঠি ইস্যু করে দেশের বিভিন্ন হাইকমিশনকে ও এম্বেসিকে প্রবাসীদের নতুন পাসপোর্ট বা পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পাসপোর্ট অফিসে প্রেরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে কম্প্লাইন্স রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
শুনানিতে এইচআর পিবির পক্ষের কৌশলী সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, লাখ লাখ প্রবাসী বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন এবং চাকরি করে উপার্জিত অর্থ রেমিটেন্স হিসেবে দেশে পাঠালে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়। কিন্ত প্রবাসীদের পাসপোর্ট দেওয়া এবং নবায়নের আবেদন দিনের পর দিন পেন্ডিং থাকার কারণে তাদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
Advertisement
পাসপোর্ট সমস্যার কারণে কখনো কখনো তাদের অনেকের চাকরি হারাতে হচ্ছে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এর প্রতিকার চেয়ে মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষে রিট আবেদনটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট সারোয়ার আহাদ, অ্যাডভোকেট রিপন বাড়ৈ এবং অ্যাডভোকেট মাহবুবুল ইসলাম।
রিটের বিবাদীরা হলেন কেবিনেট, প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়েট সচিব, বাংলাদেশের বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালকসহ (ডিজি) সংশ্লিষ্ট ১৪ জন।
এফএইচ/এমআইএইচএস/