বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট পরিচালনার জন্য নতুন কোম্পানি গঠন করে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ফিফার শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কিন্তু উয়েফাসহ একাধিক কনফেডারেশনের তীব্র বিরোধিতায় সেই পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাতিল করতে বাধ্য হয় ফিফা। এর ফলে শুধু রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবেই নয়, ব্যক্তিগতভাবেও বড় ধাক্কা খেয়েছেন ইনফান্তিনো। কারণ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে তার বার্ষিক আয় প্রায় ছয় গুণ বেড়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল।
Advertisement
ইংলিশ সংবাদপত্র দ্য টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে নতুন প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হলে ইনফান্তিনোর বার্ষিক বেতন বেড়ে ৩ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারতো। এতে সম্ভাব্য বোনাস অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
অন্যদিকে, ফিফার প্রকাশিত ২০২৫ সালের স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইনফান্তিনোর বার্ষিক মোট বেতন ছিল ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ২৬ লাখ ডলার ছিল মূল বেতন এবং ২২ লাখ ডলার বিভিন্ন বোনাস।
দ্য টাইমস আরও জানায়, ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা ছিল নতুন কোম্পানির নেতৃত্বে অনির্দিষ্টকাল থাকার। অথচ ফিফার বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হলেও তিনি সর্বোচ্চ ২০৩১ সাল পর্যন্ত সভাপতি থাকতে পারবেন।
Advertisement
প্রতিবেদনে একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘অতিরিক্ত লোভের কারণেই তিনি সবকিছু হারিয়েছেন।’ একই সঙ্গে ওই সূত্র ইনফান্তিনোকে ‘ডেড ডাক’ বলেও মন্তব্য করেছে।
ইনফান্তিনোর এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় বিরোধী ছিল উয়েফা। পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হলে ফিফার আয়োজিত প্রতিযোগিতা বয়কট করার হুমকিও দিয়েছিল ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে উয়েফা জানায়, ‘আগামী দিনগুলোতে সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এবং অন্যান্য কনফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা বিশ্লেষণ করবো কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো এবং ভবিষ্যতে যাতে আর না হয়, সেই পরিকল্পনা তৈরি করবো। এই মূল্যায়ন হবে গভীর ও মৌলিক। কোনো বিকল্পই বাদ দেওয়া হবে না। বর্তমান ফিফা নেতৃত্ব শুধু উয়েফার নয়, ফুটবল পরিবারের আরও অনেক সদস্যের আস্থাও হারিয়েছে।’
উয়েফার পাশাপাশি কনক্যাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) প্রকাশ্যে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে। আন্তর্জাতিক ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রোও পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করে। তবে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল পুরো সংকটজুড়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখে।
Advertisement
ইনফান্তিনোর প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করা হতো, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা থাকত ফিফার এবং সংখ্যালঘু শেয়ার বিক্রি করা হতো বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে।
এই প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপ, ক্লাব বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত কার্যক্রম দেখভাল করতো। পরিকল্পনার লক্ষ্য ছিল প্রায় ৪২০ কোটি মার্কিন ডলার (৪.২ বিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ সংগ্রহ করা।
তবে উয়েফার নেতৃত্বে একের পর এক কনফেডারেশনের তীব্র বিরোধিতা এবং বয়কটের হুমকির মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ইনফান্তিনো শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে এফএফই গঠনের পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা দেন। মাত্র তিন দিন আগেই তিনি ফিফার শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির সম্ভাবনার কথা প্রকাশ করেছিলেন।
আরআর/আইএন