জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়াই প্রণয়ন করায় ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে ১৯৯৪ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আগের মতোই বহাল থাকবে।
Advertisement
সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এ প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করে। সরকার নিরাপদ, কার্যকর, মানসম্মত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ জনগণের জন্য নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, ‘ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা প্রণয়নের আগে জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। কিন্তু ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ওই পরিষদের পরামর্শ ছাড়াই প্রণয়ন করা হয়েছিল।
Advertisement
এ কারণে তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির বৈধতা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
এদিকে, গত ২৯ জুন ‘ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল হলেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের আদেশে প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং সেসব ওষুধের সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আগের মতোই কার্যকর থাকবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এছাড়া অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওষুধের মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে, যেন জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি না হয় এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।
Advertisement
আরএমএম/এমকেআর