সোশ্যাল মিডিয়া

বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীকে চ্যালেঞ্জ দিলেন মিলন

দেশের যে কোনো বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীকে চ্যালেঞ্জ দিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবীর মিলন। এ বিষয়ে ৪ জুন সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন তিনি।

Advertisement

মাহবুব কবীর মিলন লিখেছেন, ‘নির্বাচনের আগে সব দলের অঙ্গীকার ছিল নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। এখন কারো মুখে কথা নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে জেলা প্রশাসকদের সম্মেলনে তাদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়ে তাগিদ দিয়েছিলেন। হোটেল, রেঁস্তোরা এবং স্ট্রিট ফুডের হাইজিন বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার কিছু কাজ ছাড়া নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের স্বাধীন ও একক কোনো ভূমিকা নেই।

মোবাইল কোর্ট করে একটা জাতির নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার রেকর্ড জগতে কোথাও নেই। এটার জন্য দরকার পলিসি মেকিং এবং রাজনৈতিক কমিটমেন্ট। সাথে সরকারের কঠোর ভূমিকা। একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা। যেখানে কোনো দলদাস বা মেরুদণ্ডহীন কারো পদায়ন হবে না।

বিএনপি ক্ষমতায়। জামাত-এনসিপি বিরোধী দলে। বিরোধীদের মুখে এ বিষয়ে রা’ নেই। বিপ্লবীদের শব্দ নেই। অনেকেই কমেন্টে মেনশন করেন তাদের। আমি হাসি। এই জীবনে তো কম দেখলাম না। লোক দেখানো কাজ আর বুলি আওড়ানো অতি সহজ। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ী, আমলা, মাফিয়া এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বাতাস দেওয়া এত সহজ নয়।

Advertisement

আজ সকাল দশটায় কীটনাশক কমিটির মিটিং। কৃষিমন্ত্রী মহোদয় উপস্থিত থাকবেন। দরকার ২০১৮ সালের কীটনাশক আইনের সম্পূর্ণ সংস্কার। নতুন করে আইন করতে হবে। এই আইনের প্রতিটি লাইন চেঞ্জ করতে হবে। কয়েক পাতার এই চোতা আইন রাতারাতি করা হয়েছিল মাফিয়াদের শতভাগ স্বার্থ রক্ষা করে।

লাখ লাখ টন কীটনাশক আমদানি করেন। কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু কীটনাশক মাস্ট বি পিওর। কীটনাশকে বিন্দু পরিমাণ হেভিমেটাল এবং রেডিও এক্টিভ এলিমেন্টস বা অন্য কোনো অপদ্রব্য থাকতে পারবে না। কারণ এটা পরিবেশে যায়, খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করে। কীটনাশকের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশে উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করতে হবে।

এতে কারো দ্বিমত থাকলে আমার সাথে ওপেন বসতে পারেন। দেশের যে কোনো বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানীকে চ্যালেঞ্জ দিলাম। ঈদের আগের রাতে এক পুষ্টি বিজ্ঞানী ও নিরাপদ খাদ্য বিশারদ (!) টিভি টক শোতে আমাকে চ্যালেঞ্জ জানালেন, দেশে একটিও এএএস মেশিন নেই। কাজে খাদ্য শৃঙ্খলে হেভিমেটালও নেই। কীটনাশক রান্নার উত্তাপে প্রায় সব নষ্ট হয়ে যায়।

অথচ দেশে একশতের ওপরে এএএস মেশিন আছে। শুধু বিসিএসআইআর-এ আছে পনেরোটি এবং শাহবাগ এটোমিক এনার্জি সেন্টারে আছে চারটি এই মেশিন। সরকারি-বেসরকারি সব ল্যাবে আছে। সব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। আর উত্তাপে অনেক কীটনাশক বিন্দুমাত্র নষ্ট হয় না। সব আমাদের পেটে যায়।

Advertisement

এই বিজ্ঞানী (!) প্রায় সব ফুড সেইফটি সেমিনারে কী-নোট স্পিকার। সব জায়গায় বলে বেড়ান, দেশে কোনো খাদ্য ভেজাল নেই। এনারা আমলা, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতাদের কাছে খুব প্রিয়। তাহলে আপনি কোথায় আর আমি কোথায়! জন্মই যেখানে আজন্ম পাপ।’

আরও পড়ুনসবচেয়ে বেশি কীটনাশক পাওয়া গেছে পানে, জানালেন মিলন 

এসইউ