প্রবাস

মায়ের মরদেহ নয়, পড়ে ছিল আমাদের মানবিকতা

বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির ওপর মা যতদিন জীবিত থাকবেন, ততদিন তার পূর্ণ ভোগদখল ও ব্যবহারিক অধিকার নিশ্চিত করা উচিত। সন্তানেরা যেন সেই সম্পত্তি বিক্রি বা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে।

Advertisement

এমন একটি আইন অনেক মাকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে আরও নিরাপদ করতে পারে। সম্পত্তির স্বার্থেই হোক, অন্তত সন্তানেরা মায়ের খোঁজখবর নিতে বাধ্য হবে।

মিরপুরের এই ঘটনা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয়। একজন মা নিঃসঙ্গতায় মৃত্যুবরণ করলেন, অথচ কেউ তার খোঁজ নিলেন না। যে সন্তানদের জন্য তিনি জীবনের সব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করেছেন, তাদের প্রতিষ্ঠিত করতে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, শেষ বয়সে তার প্রাপ্য হলো একাকীত্ব ও অবহেলা।

শিক্ষা, পদমর্যাদা কিংবা সামাজিক মর্যাদা মানুষকে বড় করে না; মানুষকে বড় করে তার মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং মা-বাবার প্রতি আচরণ। একজন মানুষ যত বড় কর্মকর্তা, শিক্ষক বা সফল ব্যক্তিই হোন না কেন, যদি নিজের মা-বাবার খোঁজ না রাখেন, তবে সেই সাফল্যের মূল্য কোথায়?

Advertisement

আমরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে অন্ধ আধুনিকতার পেছনে ছুটছি, কিন্তু নৈতিকতার প্রাথমিক পাঠশালা যে পরিবার—তা ভুলেই যাচ্ছি। বৃদ্ধাশ্রম কিংবা বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের চার দেয়ালে মাকে বন্দি রেখে যারা নিজেদের ‘সফল’ দাবি করেন, তাদের এই সাফল্য আসলে এক চরম সামাজিক দেউলিয়াত্ব।

আজ যাদের মা-বাবা বেঁচে আছেন, তাদের জন্য একটু সময় বের করুন। একটি ফোন করুন, পাশে বসুন, কথা বলুন, খোঁজ নিন। কারণ মা-বাবার প্রয়োজন শুধু অর্থ বা দামি উপহার নয়; প্রয়োজন ভালোবাসা, যত্ন ও সন্তানের সান্নিধ্য।

আজ আমরা যেমন আচরণ করছি, আগামী প্রজন্মও আমাদের কাছ থেকেই সেই শিক্ষা নেবে। কর্মের এই চক্র বড় নিষ্ঠুর, আজ আমরা অবহেলা করলে কাল আমাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। তাই মানুষ হিসেবে সফল হওয়ার আগে সন্তান হিসেবে দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

মা-বাবা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ, সবচেয়ে বড় ঋণ। তাদের সম্মান করুন, সেবা করুন, ভালোবাসুন। কারণ একদিন হয়তো সব উজাড় করে তাদের খুঁজতে চাইবেন, কিন্তু তখন আর ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

Advertisement

এমআরএম