ধর্ম

হজের দম আদায় না করে দেশে চলে আসলে করণীয় কী?

হজ পালনকারী হজ শেষে দেশে ফিরে আসার পর যদি তার মনে পড়ে কোনো ভুল ত্রুটির ফলে তার ওপর দম ওয়াজিব হয়েছিল, কিন্তু দম দেওয়া হয়নাই, তাহলে তিনি তার তরফ থেকে পরিচিত কারো মাধ্যমে অথবা অথবা নির্দিষ্ট নিয়মে অনলাইনে টাকা পেমেন্ট করে মক্কায় দম দেওয়াবেন।

Advertisement

বর্তমানে বাংলাদেশে বসেই কেউ যদি অনলাইনে দমের টাকা দিয়ে দেয়, তাহলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তার পক্ষ থেকে মক্কায় পশু জবাই করে মাংস শরঈ বিধান অনুযায়ী বিতরণ করে দেওয়া হয়।

দমের পশু জবাই বা কোরবানি হারামের সীমার ভেতরেই করতে হয়। বাংলাদেশ বা পৃথিবীর অন্য কোথাও পশু জবাই করলে দম আদায় হয় না।

দম কী?

হজ-ওমরাহ পালন করার সময় কিছু নির্দিষ্ট ভুল-ত্রুটি হলে কাফ্ফারা হিসেবে একটি কোরবানির উপযুক্ত পশু (একটি ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, অথবা গরু বা মহিষ বা উটের এক সপ্তমাংশ) জবাই করে দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয়। এই পশু জবাইকেই ‘দম দেওয়া’ বলা হয়। দম হারামের ভেতরেই দিতে হয় যেমন ওপরে উল্লেখ করেছি। দমের পশুর সব গোশত দরিদ্রদের দান করে দিতে হয়। দম দাতা দমের পশুর গোশত খেতে পারে না।

Advertisement

যেসব কারণে দম ওয়াজিব হয় মিকাত সংক্রান্ত ভুল

১. হজ, ওমরা বা অন্য যেকোনো কারণে মক্কায় যাওয়ার সময় মিকাত পার হওয়ার আগেই ইহরাম না বাঁধলে — মিকাতের বাইরে ফিরে গিয়ে ইহরাম বাঁধতে হবে, না হলে দম দিতে হবে।

খুশবু ব্যবহার সংক্রান্ত ভুল

২. ইহরাম অবস্থায় মাথা, মুখ, দাড়ি, হাত, পা, রান ইত্যাদি বড় অঙ্গে পুরোপুরি খুশবু লাগালে দম ওয়াজিব।

৩. নাক, কান, গোঁফ, আঙুলের মতো ছোট অঙ্গে বেশি পরিমাণ খুশবু লাগালেও দম ওয়াজিব।

৪. শরীরের বিভিন্ন জায়গায় একটু একটু করে খুশবু লাগানো হলে—সেগুলো একসাথে যোগ করলে যদি একটা বড় অঙ্গের সমান হয়, তাহলেও দম দিতে হবে।

Advertisement

৫. কাপড়ে এক বর্গবিঘত বা তার বেশি পরিমাণ খুশবু লাগিয়ে সেই কাপড় পুরো একদিন বা একরাত পরে থাকলে দম ওয়াজিব।

৬. মাজন বা টুথপেস্টে খুশবুর পরিমাণ বেশি থাকলে এবং তা ব্যবহার করলে দম ওয়াজিব।

৭. ঘ্রাণযুক্ত কিছু পুরো কপালে লাগালে দম দিতে হবে।

মেহেদি সংক্রান্ত ভুল

৮. ইহরাম অবস্থায় নারীরা হাতে মেহেদি লাগালে দম ওয়াজিব।

৯. পুরুষরা পুরো হাতের তালু বা পুরো দাড়িতে মেহেদি লাগালে দম ওয়াজিব।

পোশাক সংক্রান্ত ভুল

১০. শরীরের মাপে তৈরি সেলাইযুক্ত পোশাক ইহরাম অবস্থায় পুরো একদিন বা একরাত পরে থাকলে দম ওয়াজিব।

১১. ইহরাম অবস্থায় পায়ের মাঝের উঁচু হাড় ঢেকে যায় এমন জুতো, বুট বা মোজা পুরো একদিন বা একরাত পরলে দম ওয়াজিব।

১২. পুরো মাথা, থুতনি, মুখ বা অন্তত চার ভাগের এক ভাগ কাপড় দিয়ে পুরো একদিন বা একরাত ঢেকে রাখলে দম ওয়াজিব।

চুল ও পশম সংক্রান্ত ভুল

১৩. ইহরাম অবস্থায় মাথা বা দাড়ির চুলের এক-চতুর্থাংশ বা তার বেশি কাটলে, মুণ্ডন করলে বা উপড়ালে দম ওয়াজিব।

১৪. পুরো ঘাড়, পুরো বগল বা নাভির নিচের পশম সম্পূর্ণ পরিষ্কার করলে দম ওয়াজিব।

যৌন সম্পর্ক সংক্রান্ত ভুল

১৫. উত্তেজনার সাথে কোনো নারীকে চুমু দিলে বা লজ্জাস্থান মিলিত করলে দম ওয়াজিব—বীর্যপাত হোক বা না হোক। তবে এতে হজ নষ্ট হবে না।

১৬. আরাফার উকুফের আগে সহবাস করলে দম ওয়াজিব এবং হজও নষ্ট হয়ে যাবে। সেই বছর বাকি কাজগুলো করে যেতে হবে এবং পরের বছর হজ কাজা দিতে হবে।

তাওয়াফ সংক্রান্ত ভুল

১৭. জানাবাত বা হায়েজ-নেফাস অবস্থায় তাওয়াফে জিয়ারত করলে পূর্ণ গরু বা উট দম দিতে হবে।

আরাফা ও মুজদালিফা সংক্রান্ত ভুল

১৮. ৯ জিলহজ সূর্যাস্তের আগেই আরাফার সীমানা ছেড়ে চলে গেলে দম দিতে হবে। তবে সূর্যাস্তের আগেই ফিরে এলে দম লাগবে না।

১৯. সুবহে সাদিকের আগে মুজদালিফা ছেড়ে চলে গেলে দম দিতে হবে। (অসুস্থ ও নারীদের জন্য মাফ।)

কঙ্কর নিক্ষেপ সংক্রান্ত ভুল

২০. সব দিনের রমী বা কোনো একদিনের পুরো রমী ছেড়ে দিলে অথবা কিছু অংশ না করলে দম দিতে হবে।

২১. ১১ ও ১২ জিলহজ সূর্য ঢলার আগে কঙ্কর নিক্ষেপ করলে সূর্য ঢলার পর আবার করতে হবে, না করলে দম ওয়াজিব।

কোরবানি ও ধারাবাহিকতা সংক্রান্ত ভুল

২২. কিরান ও তামাত্তু হজকারীদের জন্য দমে শোকর (হজের কোরবানি) ওয়াজিব। না করলে আলাদা দম দিতে হবে।

২৩. কিরান ও তামাত্তু হজকারীদের ক্ষেত্রে — কঙ্কর নিক্ষেপ → কোরবানি → মাথা মুণ্ডন, এই ক্রম মানা ওয়াজিব। ইফরাদ হজকারীর ক্ষেত্রে — কঙ্কর নিক্ষেপ → মাথা মুণ্ডন, এই ক্রম মানা ওয়াজিব। ক্রম উল্টে গেলে দম দিতে হবে।

২৪. ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে হলক বা কছর না করলে দম ওয়াজিব।

বিদায়ী তাওয়াফ সংক্রান্ত ভুল

২৫. বিদায়ী তাওয়াফ না করলে দম দিতে হবে।

ওএফএফ