সাহিত্য

দেবব্রত চক্রবর্তী বিষ্ণুর দুটি কবিতা

স্নেহভাজনেষু ডা. সুস্মিতা মণ্ডলকে

Advertisement

কষ্টের বিন্দু বিন্দু জল

কত জীবনে কষ্টের বিন্দু বিন্দু জল গড়ে তোলে সিন্ধুকত জীবন নিজের ক্ষতগুলো আড়াল করে রাখেক্ষতের ওপর সৃষ্ট ক্ষতেও যাতনা প্রকাশ করে নানাগরিক জীবনে জানালার ফাঁক দিয়ে সিন্ধুতেসব জলাঞ্জলি দিয়ে কৃত্রিম হেসে বলে দেয়ভালো আছি, তোমরা স্থির যেন; খুব ভালো আছি।

কষ্টের ধারাপাত পড়তে পড়তে যাদের জীবন গড়ায়তাদের কাছে জীবনের রঙ বলতে বোঝায়গ্লাসে ভরা পান-অযোগ্য জলতাদের প্রতিটি দীর্ঘশ্বাসের ভাঁজে ভাঁজেকত কিছু জমা রেখে আবার নতুন জীবন খোঁজে।

Advertisement

কেউ কেউ জন্ম-জন্মান্তরের জমাটবদ্ধ কষ্টগুলোলুকিয়ে রেখে নতুন কষ্টগুলো আরও বেশি যত্নে পোষেপোড় খাওয়া মানুষই কেবল জানে মানুষকে কতটা ভালোবাসলেতাদের কষ্টগাথাগুলো কীভাবে অমর কবিতা হয়ে ওঠেমানুষ তো শুধু প্রাণিমাত্র নয়, তবু অসংখ্য মানুষের ভিড়েকদাচিৎ মানুষের দেখা মেলে।

দুই.

দুঃখ চাষিদের দুঃখ

কী বিস্ময়করভাবে তোমার আনন্দের ভেতরঅনর্গল কথা বলছে আর্তনাদকখনও কখনও আর্তনাদের ভেতরেঅপার শান্তির ছায়াও দেখেছিআবার এও দেখেছি, এই শান্তির ভেতরেইবইছে সমুদ্রের সাঁইসাঁই ঝড়আহারে, আহা; মানুষের জীবন-খতিয়ানে কত আঁকিবুঁকি!

Advertisement

তুমি নিশ্চয় জানো সিসিফাসের সেই গল্পটাগ্রিক পুরাণের গল্প, যা হোমারের অডিসিতে আছেসিসিফাস বেচারা একটা খাঁড়া পাথর পাহাড়েরওপরে ঠেলে তোলে, আর পাথরটা গড়িয়ে নিচে পড়েআবার পাথরটাকে ঠেলে ওপরে তোলেযতবার তোলে, ততবার পড়ে, কিন্তু সে বিরতি দেয় নাতার অবিরাম এই একটা কাজপাথর ঠেলে পাহাড়ের চূড়ায় তোলাআর সেটা গড়িয়ে নিচে পড়লে আবার ঠেলতে থাকা।

কোনো কোনো দুঃখ অন্ধকার ঘুচিয়ে আলোর প্লাবন ঘটায়অন্তর্লোকের আগুন ছড়ায় অনন্ত দিগন্তব্যাপীঅনন্ত কণ্ঠে শুনি তোমার উদার আকাশের জয়গানতুমি তো নিষ্ফলা নও, জীবনের সবকিছু দৃশ্যমান হয় নাদুঃখ চাষিদের দুঃখ তোমাতেই হোক বিলীন।

এইচআর/এমএস