গরমের দিনে এসি এখন অনেক পরিবারের নিত্যসঙ্গী। তবে অনেকেই জানেন না, এসির সঠিক মোড নির্বাচন করলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বেশিরভাগ ব্যবহারকারী এসি চালিয়ে শুধু তাপমাত্রা কমিয়ে দেন, কিন্তু মোড নির্বাচনেও যে বড় পার্থক্য তৈরি হয়, তা অনেকেরই অজানা।
Advertisement
ঘর খুব গরম থাকলে প্রথমে কুল মোড ব্যবহার করাই সবচেয়ে কার্যকর। এই মোডে এসির কম্প্রেসার পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করে এবং নির্ধারিত তাপমাত্রা পর্যন্ত দ্রুত ঘর ঠান্ডা করে। অনেক এসিতে আবার টার্বো মোড বা পাওয়ার কুল মোড থাকে। এই মোড চালু করলে ফ্যান ও কম্প্রেসার সর্বোচ্চ গতিতে কাজ করে, ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘরের তাপমাত্রা কমে যায়। তবে দীর্ঘ সময় টার্বো মোড চালিয়ে রাখা উচিত নয়, কারণ এতে বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক বেশি হয়।
আরও পড়ুন বাড়িতে স্প্লিট এসি পরিষ্কার করবেন যেভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সেরা মোডঘর পর্যাপ্ত ঠান্ডা হয়ে গেলে ইকো মোড বা এনার্জি সেভিংস মোড চালু করা সবচেয়ে ভালো। এই মোডে এসি প্রয়োজন অনুযায়ী কম্প্রেসারের গতি নিয়ন্ত্রণ করে, ফলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ইকো মোড ব্যবহার করলে আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলও কম রাখা সম্ভব।
স্লিপ মোড কতটা কার্যকর?রাতের জন্য স্লিপ মোড একটি আদর্শ বিকল্প। ঘুমের সময় শরীরের তাপমাত্রার চাহিদা কমে যায়। এটি বিবেচনায় নিয়ে এসি ধীরে ধীরে তাপমাত্রা সামান্য বাড়িয়ে দেয় এবং কম্প্রেসারের ব্যবহার কমায়। ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয় এবং অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে অস্বস্তিও হয় না।
Advertisement
বর্ষাকাল বা আর্দ্র আবহাওয়ায় ড্রাই মোড বেশ কার্যকর। এটি মূলত বাতাসের আর্দ্রতা কমায়। ঘর খুব বেশি গরম না হলেও যদি ভ্যাপসা লাগে, তাহলে ড্রাই মোড ব্যবহার করলে পরিবেশ অনেক বেশি আরামদায়ক মনে হবে। একই সঙ্গে কুল মোড-এর তুলনায় বিদ্যুৎ খরচও কম হয়।
সর্বোত্তম কৌশলঘরে ঢুকে প্রথমে ১০-১৫ মিনিট কুল বা টার্বো মোড ব্যবহার করুন। ঘর ঠান্ডা হয়ে গেলে ইকো মোড-এ চলে যান এবং তাপমাত্রা ২৪-২৬ ডিগ্রির মধ্যে রাখুন। এই পদ্ধতিতে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হবে, আবার অযথা বিদ্যুৎও নষ্ট হবে না। অর্থাৎ সঠিক মোড বেছে নিলেই এসির আরাম ও সাশ্রয়-দুটিই একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব।
কেএসকে
Advertisement