ক্যাম্পাস

ছাত্রত্ব শেষ জাকসু জিএসের, ‘ড্রপ আউট’ ভিপি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতির (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম উভয়ের ছাত্রত্ব নেই। অ্যাকাডেমিক নিয়ম অনুযায়ী, ছাত্রত্ব শেষ করেছেন জিএস এবং ভিপি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ড্রপ আউট’ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছিটকে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

Advertisement

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং জিএস মাজহারুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তারা দুজনেই জাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে এক বছর ড্রপ দিয়েছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার পর মাজহার তার পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তবে জিতু তার স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ৫০৪ নম্বর কোর্স নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম অনুযায়ী- স্নাতক সম্পন্ন করতে চার বছরে সঙ্গে অতিরিক্ত দুই বছর এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে এক বছরের কোর্সের সঙ্গে অতিরিক্ত এক বছর দেওয়া হয়। তবে এ নিয়মে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রত্বের বৈধতা হারিয়েছে জাকসু ভিপি জিতুর। তিনি তার বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের সঙ্গে স্নাতকোত্তর শেষ করতে পারেননি। অন্যদিকে, গত মাসে অর্থাৎ মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে ছাত্রত্ব শেষ করেন জাকসু জিএস মাজহার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ মোহাম্মদ আলী রেজা বলেন, কেউ যদি অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফর্ম পূরণের আগ পর্যন্ত কোনো বিষয়ে কিংবা কোনো বছর ড্রপ দেয় সেক্ষেত্রে সে দুই বছর সময় পাবে। এ সময়টাতে সে নিয়মিত শিক্ষার্থী থাকবে। তবে চতুর্থ বর্ষের ফর্ম পূরণের পরে যদি ড্রপ দেয় তাহলে সে অনিয়মিত হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে মাস্টার্সে প্রথম বছরের মধ্যে শেষ করতে না পারলে দ্বিতীয় বছরে সে অনিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য হবে। দ্বিতীয় বছরে মাস্টার্স শেষ করতে না পারলে তার ছাত্রত্ব স্বাভাবিক নিয়মে শেষ হবে। এটাকে ‘ড্রপ আউট’ বলা যেতে পারে। পরবর্তীতে সে পরীক্ষায় বসতে চাইলে, উপাচার্য বা অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের অনুমতি সাপেক্ষে বসতে পারে। অনুমতি না পেলে তার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নেই। সে স্বাভাবিক কোনো ছাত্র থাকবে না।

Advertisement

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ক্লিয়ারেন্স শেষে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরই ছাত্রত্ব শেষ বলে গণ্য হবে এবং এটা ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে না পারলে, সেটি অনিয়মিত নয় বরং বিশেষ হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, জিতুর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। তাকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে বিধি অনুযায়ী বিশেষ পরীক্ষা দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, জাকসুর জিএস মাজহার তার অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শেষ করেছে। এখন ফলাফল প্রকাশ করা বাকি রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।

Advertisement

মো. রকিব হাসান প্রান্ত/কেএইচকে/এমএস