ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে রোববারও রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আমানতকারী ও গ্রাহকেরা। কর্মসূচি থেকে তারা সাত দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং এসব দাবির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দেন।
Advertisement
রোববার (১৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে শতাধিক আমানতকারী ও গ্রাহক অংশ নেন।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ইসলামী ব্যাংকের নিউমার্কেট শাখার আমানতকারী ইয়াসির বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংক হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের স্থিতিশীলতা শুধু গ্রাহকদের নয়, সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্যাংকটির সঙ্গে লেনদেন করছেন উল্লেখ করে বলেন, যে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট থেকে ব্যাংকটিকে রক্ষা করা গ্রাহকদেরও দায়িত্ব।
আরেক আমানতকারী জয়নাল বলেন, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক গ্রাহক ইসলামী ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখেছে। ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হলে আমানতকারীদের স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া।
Advertisement
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন ও নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ কেন্দ্র করে গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একটি অংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণের দাবি জানান।
এর আগে শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ সাত দফা দাবি ঘোষণা করে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আহ্বায়ক ও মুখপাত্র নুর উন-নবী বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা, আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রতিবাদে তারা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছেন।
ফোরামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যানকে অপসারণ করে ইসলামী ব্যাংকিং বিষয়ে অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিকে নিয়োগ, ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করা।
এছাড়া ব্যাংক খাতে সংঘটিত অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা, ইসলামী ব্যাংকগুলোতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা, অপপ্রচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ব্যাংকের দায় পরিশোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
Advertisement
জানা গেছে, ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। একই দিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ব্যাংকটিকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা এবং গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।
ইএআর/এমআইএইচএস