দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির হার কম হলেও ঝরে পড়ার হার বেশি বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
Advertisement
তিনি বলেন, দেশে ভর্তি হার তুলনামূলক কম এবং ঝরে পড়ার হার বেশি। এ বাস্তবতা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী স্কুল ইউনিফর্ম চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এর আওতায় সব শিক্ষার্থীকে সমানভাবে স্কুল ড্রেস দেওয়া হবে। প্রথম ধাপে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে, যা আগামী জুলাইয়ের শেষ বা আগস্ট মাসে শুরু হতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বাড়ানো।
রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত ‘ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অন দ্য বাংলাদেশ এডুকেশন সেক্টর অ্যানালাইসিস (ইএসএ)’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঝরে পড়া ঠেকাতে মিড ডে মিল কর্মসূচির বিষয়টি উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাবার সরবরাহে কিছু ত্রুটি পাওয়া গেলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। যারা অনিয়ম করছে বা নিম্নমানের ও নষ্ট খাবার সরবরাহ করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
Advertisement
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাখাত অত্যন্ত বড় একটি সেক্টর। বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। এরমধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা সাড়ে ৬৫ হাজারেরও বেশি। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ওয়াশরুম থাকলেও সেগুলোর মানোন্নয়নে কাজ চলছে।
এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব মূল্যবোধ গড়ে তোলা।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা জরুরি। এ লক্ষ্যেই কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে।
বাজেট প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে শিক্ষাখাতে জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বরাদ্দ ছিল, যার মধ্যে আইসিটি ও অন্যান্য খাতও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বর্তমান সরকার তা প্রায় ২ শতাংশে উন্নীত করেছে।
Advertisement
তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষাখাতে আগে ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যা বর্তমানে বেড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক খাতে বরাদ্দ ৩১ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। একইভাবে উচ্চশিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৪৬ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৫৭ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আগামী চার বছরের মধ্যে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বাজেট প্রণয়নের সময় তিনি নিজেও চিন্তা করেছেন কীভাবে এত বড় বরাদ্দ কার্যকরভাবে ব্যয় করা হবে। তাই অতিরিক্ত চাহিদার পরিবর্তে বাস্তবসম্মত বাজেটের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম এবং লার্নিং আউটকাম এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল সন্তোষজনক নয় এবং এ বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। গত চার বছরের অর্জন মূল্যায়নের পাশাপাশি বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
‘ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অন দ্য বাংলাদেশ এডুকেশন সেক্টর অ্যানালাইসিস (ইএসএ)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এতে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরীসহ শিক্ষাবিদ ও ইউনিসেফের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এএএইচ/এমআইএইচএস