স্পেন ফাইনাল জেতার এক সপ্তাহের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। কিন্তু আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের কাছে বিশ্বকাপ এখনো শেষ হয়নি। সম্প্রতি তিনি এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তার মতে, আর্জেন্টিনার দল ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে ওঠা বর্ণবাদের অভিযোগ এবং ফিফার পক্ষ থেকে ফেভারিট বানানোর ষড়যন্ত্রের পেছনে একটি সমন্বিত ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা’ কাজ করেছে।
Advertisement
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ও কট্টর ডানপন্থি আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, এই তথাকথিত প্রচারণার পেছনে অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দল এবং ব্রাজিল ও মেক্সিকোর সরকার।
আরও পড়ুন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টকে ‘চোর’ বললেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টএকটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মুক্তবাজারের ধারণাকে ব্যর্থ করতে প্রগতিশীল মনস্তত্ত্বের মানুষরাই এই কাজ করেছে। বিশেষ করে বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার নেতৃত্বাধীন ব্রাজিল সরকার এতে সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, নিজের কমে যাওয়া জনপ্রিয়তা থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই মিলে এই ষড়যন্ত্রের গল্প ফেঁদেছেন।
Advertisement
বিশ্বকাপ চলাকালীন আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থকের বর্ণবাদী আচরণ বিশ্বজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়। মার্কিন অভিনেতা স্যামুয়েল এল জ্যাকসনও আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো মানবাধিকার সংস্থা প্রতিক্রিয়া জানায়।
আরও পড়ুন নায়ক না খলনায়ক / আর্জেন্টিনাকে কি ভুল বুঝছে মানুষ?তবে মিলেইয়ের দাবি, দেশের বিরোধীরা ‘ওক’ (woke) আন্দোলনকে সমর্থন দিয়ে এই সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
সম্প্রতি ব্রাজিলে গিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারোর ছেলের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন হাভিয়ের মিলেই। সেখানে তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাকে আক্রমণ করার পাশাপাশি দাবি করেন, আর্জেন্টিনা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ এসেছে ব্রাজিল থেকেই। পরে এর সঙ্গে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটদের নামও জুড়ে দেন তিনি।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অনলাইনে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা থাকলেও এর পেছনে কোনো বড় আকারের সমন্বিত চক্রান্তের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সমালোচকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৩ সালের সামরিক স্বৈরাচারী আমলেও সরকার একই ধরনের ‘আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা’র জুজু দেখিয়েছিল। মিলেইয়ের জনপ্রিয়তা যখন নিম্নমুখী এবং দেশে বেকারত্ব বাড়ছে, তখন জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে সরাতেই এই রাজনৈতিক কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
Advertisement
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ানকেএএ/