থাইল্যান্ডে জাঁকজমক ছুটি কাটানোর স্বপ্ন এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতায় রূপ নিয়েছে তিন পর্যটকের জন্য। সস্তায় থাইল্যান্ড ভ্রমণের লোভনীয় প্যাকেজের ফাঁদে পা দিয়ে তারা পৌঁছেছিলেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে। কিন্তু ব্যাংকক বিমানবন্দর থেকে নামার পরেই তাদের অপহরণ করা হয়। পাতায়ার একটি বাড়িতে টানা এক সপ্তাহ আটকে রেখে চলে নানা ধরনের নির্যাতন।
Advertisement
অবশেষে গত সোমবার (২৭ জুলাই) থাই পুলিশের অভিযানে ওই তিন ভারতীয় পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার তিন যুবকের বয়স ২৩ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে।
তারা পুলিশকে জানিয়েছেন, বন্দি অবস্থায় তাদের ওপর প্রতিদিন অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো। তাদের মুখ, হাত ও পা বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হতো এবং শক্ত বস্তু দিয়ে পায়ে পেটানো হতো। পরিবারগুলোর কাছ থেকে দাবি করা হয়েছিল ৭০ লাখ রুপির সমান মুক্তিপণ।
আরও পড়ুন ভিসামুক্ত থাকার মেয়াদ কমাচ্ছে থাইল্যান্ডপরিবারকে ভয় দেখাতে ভিডিও কল করার সময় অপহৃতদের শরীরে লাল রং মাখিয়ে দেওয়া হতো, যেন দেখে রক্ত মনে হয়। এমনকি তাদের ঠিকমতো খাবার ও শৌচাগার ব্যবহার করতেও দেওয়া হয়নি।
Advertisement
জানা গেছে, এই অপহরণের পেছনে ভারত ও পাকিস্তানের নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র কাজ করেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, একটি ভ্রমণ প্যাকেজের আওতায় জনপ্রতি ৭০ হাজার বাথ (প্রায় দুই রাখ রুপি) পরিশোধ করেছিলেন তারা। গত ২১ জুলাই থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে নামেন তিন পর্যটক। এরপর তারা একটি ট্যাক্সি নিয়ে পাতায়া যান এবং সেখান থেকে সুখুমভিত হাইওয়ের পাশে একটি ফাস্ট-ফুড রেস্তোরাঁয় পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎস্থলে পৌঁছান।
সেখান থেকে একজন ভারতীয় ব্যক্তি তাদের মোটরসাইকেলে করে একটি ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই চারজন পাকিস্তানি নাগরিক ও তাদের আরেক ভারতীয় সহযোগী তাদের কাবু করে ফেলে।
আরও পড়ুন কৃষি থেকে শিল্পে উত্থান / অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে উঠছে থাইল্যান্ড, বাড়ছে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যচক্রটি অবস্থান গোপনের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের (দুবাই) একটি ফোন নম্বর ব্যবহার করেছিল। ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছ থেকে খবর পেয়ে থাই পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় পাত্তায়ার সেই গোপন আস্তানা খুঁজে বের করে।
Advertisement
অভিযানের সময় সন্দেহভাজন অপহরণকারীরা পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে মঙ্গলবার ব্যাংককের একটি হোটেল থেকে পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করে থাই পুলিশ। ধৃতরা হলেন—অবতার সিং, জগজিৎ সিং, রামবালক কুমার, সুখবীর সিং এবং কুলরা সিং। তারা দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানিয়েছেন, চ্যাট অ্যাপের মাধ্যমে এক পাকিস্তানি নাগরিকের নির্দেশে তারা এই অপহরণ করেছিলেন। দুবাই থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা তোলার পরিকল্পনা করেছিল চক্রটি।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডেকেএএ/