চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী রেলগেটে ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেনের ওভারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
Advertisement
রোববার (২ আগস্ট) নগর ভবনে অনুষ্ঠিত ‘খুলশী রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রস্তুতি সভায় এ তথ্য জানানো হয়। সভায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ক্রমবর্ধমান যানজট নিরসন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সম্ভাব্যতা যাচাই ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের অংশ হিসেবে একটি টেকনিক্যাল প্রেজেন্টেশন পর্যালোচনা করেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ অন্য প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন চট্টগ্রাম / গ্যাসের জন্য হাহাকার, স্বাভাবিক হতে লাগতে পারে আরও ৮ দিনসভায় প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, কারিগরি বৈশিষ্ট্য, ব্যয়, জনসেবা ও ভবিষ্যৎ উপযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করা হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ডিলাইট ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনসালট্যান্টস লিমিটেডের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দল এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা প্রকল্পটির বিভিন্ন কারিগরি বিষয়, বাস্তবায়ন কৌশল, সম্ভাব্য ব্যয় এবং ধাপভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন।
এসময় জানানো হয়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম রেললাইনের সংযোগস্থলে অবস্থিত খুলশী রেলগেটে প্রতিদিন তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ১১০ কোটি ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা আনুমানিক ব্যয়ে একটি চার লেনের ওভারপাস নির্মাণের নকশা প্রস্তাব করা হয়েছে।
Advertisement
প্রকল্পে থাকবে ২০০ মিটার মূল ওভারপাস কাঠামো (প্রস্থ ১৯.১০ মিটার), ৫০০ মিটার র্যাম্প (প্রস্থ ১৮.৬০ মিটার), ২ হাজার ২৮০ মিটার দীর্ঘ ও ৫ দশমিক ৫০ মিটার বিস্তৃত সার্ভিস রোড এবং ২ হাজার ২৮০ মিটার দীর্ঘ ফুটপাত কাম ড্রেন। প্রকল্পে মোট ৩ দশমিক ২৫৯ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে। ওভারপাস চালু হলে এক্সপ্রেস ট্রাফিক বা দ্রুতগতির যানবাহন ওভারপাসের ওপর দিয়ে চলে যাবে এবং লোকাল ট্রাফিক (রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল) নিচের সার্ভিস রোড ব্যবহার করবে। ফলে ক্রসিংয়ে ‘জিরো ওয়েটিং টাইম’ বা শতভাগ যানজটমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত হবে।
আরও পড়ুন বেসরকারি খাতে যাচ্ছে আরও ৩ বন্ধ পাটকলপাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন পর্যবেক্ষণ শেষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছি। খুলশী রেলগেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা হাজারও মানুষের দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান হবে প্রস্তাবিত খুলশী রেলওয়ে ওভারপাস। পাশাপাশি দেওয়ানহাটে সাড়ে চার দশকের পুরোনো জরাজীর্ণ ওভারপাসটি নতুন করে ভেঙে না ফেলে আধুনিক রেট্রোফিটিং ও শক্তিশালীকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে এর আয়ুষ্কাল আরও ৩০ বছরের বেশি বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে সিটি করপোরেশনের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে এবং নগরবাসী দ্রুত এর সুফল পাবেন।
চসিক জানায়, ১৯৭৮-১৯৮০ সালে নির্মিত প্রায় ৪৫ বছরের পুরোনো দেওয়ানহাট ওভারপাসের বিদ্যমান বিপজ্জনক অবস্থা (কংক্রিট ক্ষয়, রডের মরিচা ও সারফেস ক্র্যাকিং) প্রেজেন্টেশনে তুলে ধরা হয়। প্রতিদিনের ভারী কনটেইনার ও পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের কারণে এটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সমস্যা সমাধানে চসিক মেয়রের সামনে ৩টি বিকল্প ও রেট্রোফিটিং কৌশল উপস্থাপন করা হয়। এতে বিদ্যমান অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ ও আধুনিকায়ন করা হবে। ফলে কোনো উচ্ছেদ ছাড়াই পিলারের লোড ক্ষমতা ৪৫ শতাংশ বাড়বে, খরচ অত্যন্ত কম এবং মেয়াদ ৩০ বছর বৃদ্ধি পাবে। পর্যালোচনার পর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বিদ্যমান দেওয়ানহাট ওভারপাসের ‘রেট্রোফিটিং ও স্ট্রেনদেনিং’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে যাচাই করতে নির্দেশ দেন।
এমডিআইএইচ/কেএসআর
Advertisement