রান্নাঘরকে আমরা যতই পরিষ্কার রাখি না কেন, একটি ছোট ভুল পুরো পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে। প্রতিদিন ব্যবহৃত বাসন মাজার স্পঞ্জই অনেক সময় অজান্তে জীবাণুর আড্ডাখানায় পরিণত হয়।
Advertisement
খাবারের কণা, তেল আর আর্দ্রতার কারণে এতে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া জমে যায়, যা পরে থালা-বাসন ও রান্নাঘরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আমরা অনেকেই সময়মতো এই স্পঞ্জ বদলাই না বা এর ঝুঁকিকে গুরুত্ব দেই না। ফলে পরিচ্ছন্নতার জন্য ব্যবহৃত জিনিসই উল্টো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে শুরু করে। তাই নিয়মিত স্পঞ্জ পরিবর্তন করা রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস।
১-২ সপ্তাহ পরপর স্পঞ্জ বদলানো ভালোসাধারণভাবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ব্যবহারের মাত্রা অনুযায়ী প্রতি ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে স্পঞ্জ পরিবর্তন করা উচিত। দিনে বারবার ব্যবহার করা হলে স্পঞ্জে দ্রুত জীবাণু জমে যায় এবং এর পরিষ্কার করার ক্ষমতাও কমে আসে। নিয়মিত বদলালে থালা-বাসন ও রান্নাঘরের বিভিন্ন পৃষ্ঠে জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
দুর্গন্ধ হল সতর্কতার বড় সংকেতস্পঞ্জ থেকে যদি টক বা অস্বস্তিকর গন্ধ বের হয়, তাহলে বুঝতে হবে এতে ব্যাকটেরিয়া ও খাবারের কণা জমে গেছে। অনেক সময় ধুয়ে ফেললেও এই গন্ধ পুরোপুরি যায় না। এমন অবস্থায় স্পঞ্জটি আর ব্যবহার না করে দ্রুত বদলে ফেলা সবচেয়ে নিরাপদ।
Advertisement
আরও পড়ুন:
ভুলেও ফেলে দেবেন না এই পানি বৃষ্টিতে ঘর স্যাঁতস্যাঁতে? জানুন শুকনো রাখার উপায় নষ্ট বা ছেঁড়া স্পঞ্জ ব্যবহার করা ঠিক নয়যদি স্পঞ্জ ছিঁড়ে যেতে শুরু করে, তার আকার নষ্ট হয় বা ভেঙে যায়, তাহলে সেটি আর কার্যকরভাবে পরিষ্কার করতে পারে না। এ ধরনের স্পঞ্জে ময়লা বেশি আটকে থাকে এবং ভালোভাবে পরিষ্কারও হয় না, ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।
সাময়িকভাবে জীবাণু কমানো সম্ভবগরম পানিতে ভিজিয়ে রাখা বা খুব অল্প সময়ের জন্য সতর্কভাবে গরম করে স্পঞ্জের জীবাণু কিছুটা কমানো যায়। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। নির্দিষ্ট সময় পরপর স্পঞ্জ বদলানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
আলাদা কাজের জন্য আলাদা স্পঞ্জ ব্যবহার করা উচিতথালা-বাসন, রান্নার জায়গা বা ভারী পরিষ্কারের কাজের জন্য একই স্পঞ্জ ব্যবহার না করাই ভালো। আলাদা আলাদা স্পঞ্জ ব্যবহার করলে জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনা কমে এবং রান্নাঘর বেশি পরিচ্ছন্ন থাকে।
Advertisement
সর্বোপরি, বাসন মাজার স্পঞ্জ নিয়মিত বদলানো একটি ছোট কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। এতে শুধু রান্নাঘর পরিষ্কার থাকে না, বরং পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতেও বড় ভূমিকা রাখে।
জেএস/