খেলাধুলা

একসময় আমরা ভয় পেতাম, এখন ভয় পায় প্রতিপক্ষ: সৌম্য

বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা সময় ছিল, যখন প্রতিপক্ষের গতির বোলিং সামলানোই ছিল ব্যাটারদের বড় চ্যালেঞ্জ। মাঠে নামার আগেই অনেক সময় ভয় কাজ করত পেসারদের নিয়ে। সেই বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন সৌম্য সরকার। তবে এখন দৃশ্যপট একেবারেই ভিন্ন। বাংলাদেশের পেস আক্রমণই এখন প্রতিপক্ষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement

চলতি বছরে ঘরের মাঠে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও দারুণ ছন্দে দেখা গেছে বাংলাদেশের পেসারদের। নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে চাপে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম সেরা দলও। পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের পেসারদের আধিপত্যের কথাই বলছে। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত আটটি ওয়ানডেতে ৫৪ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা নেপালের সংগ্রহ ৩৩ উইকেট, আর নিউজিল্যান্ডের ৩২।

শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসে বদলে যাওয়া এই বাস্তবতা নিয়ে কথা বলেন সৌম্য। তার মতে, আগে যেভাবে বাংলাদেশের ব্যাটাররা প্রতিপক্ষের পেসারদের নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করতেন, এখন সেই কাজটাই করতে হচ্ছে অন্য দলগুলোকে। তিনি বলেন, ‘আমরাই যখন আগে খেলতাম শুরুর দিকে, তখন চিন্তা করতাম এই বোলারটাকে খেলব। আবার আরেকটা বোলার আছে, তাকেও আমার খেলতে হবে। যে কোনো একজন বোলারকে বেছে নিতে হতো, কাকে আক্রমণ করব আর কাকে দেখে খেলব। এখন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই জিনিসটা অন্যরা চিন্তা করছে। তারা চাপে আউট হয়ে যাচ্ছে। চাপে ভুল শট খেলে আউট হচ্ছে। এটা দেখতেও যেমন ভালো লাগে, নিজের কাছেও ভালো অনুভূতি হয়।’

সৌম্য মনে করেন, বর্তমান পেস ইউনিটের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের পারস্পরিক প্রতিযোগিতা ও দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতা। একজন ব্যর্থ হলে অন্যজন এগিয়ে এসে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিচ্ছেন, ‘এখন তাসকিন-মুস্তাফিজ বল করছে। তৃতীয় পরিবর্তনে রানা আসছে। যখন রানা একদিন একটু কম উইকেট পাচ্ছে, সেদিন মুস্তাফিজ নিয়ে নিচ্ছে। এটা খুব ভালো ব্যাপার। দলের মধ্যে খুব ভালো সময় যাচ্ছে। আজকে রানা (উইকেট) নিচ্ছে, কালকে মুস্তাফিজ নিচ্ছে, এর পরের দিন তাসকিন নিচ্ছে। এটা খুবই ভালো। সবশেষ সিরিজে শরিফুলও অনেক ভালো বল করেছে। ভালো ইকোনমিতে বল করেছে, কিন্তু সে দলের একটা (কম্বিনেশন) ইস্যুর জন্য খেলতে পারছে না। এটা ভালো দিক দলের জন্য এবং ভবিষ্যতে যে খেলাগুলো হবে, সেগুলোর জন্যও।’

Advertisement

সম্প্রতি তাসকিন আহমেদ বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে বিশ্বের সেরা তিনটির একটি বলে মন্তব্য করেছিলেন। সৌম্যও সেই মূল্যায়নের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন। তার বিশ্বাস, যেকোনো কন্ডিশনেই বাংলাদেশের পেসাররা এখন প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে সক্ষম। তিনি বলেন, ‘আমার দেখা মতে, যে কোনো কন্ডিশনে ও যে কোনো দেশে আমাদের পেস বোলিং ইউনিট অন্যতম সেরা। আমার মনে হয়, যে কোনো দল আমাদের বিপক্ষে খেলতে গেলে অবশ্যই আমাদের পেস বোলিং আক্রমণ নিয়ে চিন্তা করবে। বাইরে খেলতে গেলে, তখন তারা চিন্তা করবে পেস বোলিং উইকেট দেবে কিনা। পেস বোলিংয়ে আমাদের জন্য এখন খুব ভালো সময় যাচ্ছে। তারা এত ভালো করছে।’

তবে এই সাফল্য ধরে রাখতে পেসারদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। সৌম্যর মতে, দীর্ঘমেয়াদে দলকে এগিয়ে নিতে হলে এই সম্পদকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে হবে, ‘জয়ের অনুপাতের দিক থেকে আগে স্পিন অনেক বেশি সাহায্য করত, এখন সেটা পেসাররা করছে। এটা খুবই ভালো দিক। আমার মনে হয়, তাদেরকে অনেক বেশি যত্ন করা উচিত। যত্নশীল হওয়া উচিত, যেন আরও লম্বা সময় তারা দলকে ভালোর দিকে নিয়ে যেতে পারে।’

একই সঙ্গে জাতীয় দলের বাইরে থাকা তরুণ পেসারদেরও নিজেদের আরও উন্নত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সৌম্য বলেন, ‘ওদেরকে (বর্তমানে জাতীয় দলে থাকা পেসার) দেখে নিচের সারিতে যারা আছে, তারাও যেন নিজেকে তৈরি করে। আবার পাইপলাইনে যারা এখন আছে, তাদেরকে নক করতে পারে। তাহলে ভালো একটা প্রতিযোগিতা হবে। ভবিষ্যতেও এটার (পেস বোলার) ঘাটতি হবে না। একটা স্রোতে আমরা উপরের দিকে যেতে থাকব।’

এসকেডি/আইএইচএস

Advertisement